কোয়ান্টাম ২০
আমরা যখন দেখি
১।
আরভিং শ্রডিঙ্গার মুচকি মুচকি হাসছেন। আজকে তাঁর শয়তান বিড়ালটাকে বিষ খাওয়ানো হবে।
বিড়াল থাকবে একটা বক্সে, তালা দেওয়া। সেই লেভেলের একটা বক্স, বাইরে থেকে যোগাযোগের কোন উপায় নেই।
বিড়ালকে বক্সে ঢুকিয়ে তালা মারা হবে।
বক্সে থাকবে একটা তেজস্ক্রিয় পদার্থ। সেখান থেকে একটা আলফা কণা বের হতেও পারে, নাও বের হতে পারে।
যদি বের হয় ওই কণা একটা সায়ানাইডের বোতলকে ধাক্কা দিবে। বোতল ভেঙ্গে বিষ ছড়িয়ে পড়বে বক্সে। বিড়াল মারা যাবে।
যদি না বের হয় বিড়াল বেঁচে থাকবে।
কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী, যতক্ষণ কেউ না দেখছে, আলফা কণা একই সাথে বের হয়েছে আর হয় নাই।
সায়ানাইডের বোতল ভেঙ্গেছে আবার ভাঙ্গে নি।
বিড়াল একই সাথে বেঁচে আছে আবার মারা গেছে।
২।
ঘটনার শুরু ডি ব্রগ্লির ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্ট। আগের পর্বে ডিটেইল বলেছি।
বন্দুক থেকে ইলেকট্রন বের হচ্ছে। ইলেকট্রনের তরঙ্গ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। দুই স্লিট দিয়ে তরঙ্গ ঢুকছে । দেওয়ালে যেয়ে ইন্টারফিয়ার করছে। তারপর তরঙ্গের উঁচু জায়গাগুলোতে ইলেকট্রন দেখা যাচ্ছে।
এই পরীক্ষা বহুবার করা হয়েছে। আলোর জন্য, ইলেকট্রনের জন্য, একটা পরমাণুর জন্য, এমনকি ৬০টা কার্বন পরমানুওয়ালা কার্বন বাকিবলের জন্য।
সব সময় একই রেজাল্ট। ইন্টাফিয়ারেন্স প্যাটার্ন দেখা যায়।
এই পরীক্ষা বড় জিনিসের জন্য করা খুব কঠিন। ভর যত বেশি হবে, তরঙ্গদৈর্ঘ্য ততো ছোট হবে। এই পরীক্ষার জন্য যে স্লিট বা দরজাগুলো দরকার হবে সেগুলোর সাইজ হতে হবে ওই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আশেপাশে।
এবার একটু চিন্তা করেন, আপনাকে যদি অ্যান্ট ম্যানের মতো একটা পরমাণুর সমান ছোট করে ছোট দুই দরজার দিকে ছুড়ে মারা হতো, কি হত? পরমাণুকে যখন ছুঁড়ে দেওয়া হয় তখন কি হয়? পরমাণু কখন বুঝে তাকে তরঙ্গের মতো আচরণ করতে হবে? তার চেয়েও বড় কথা, পরমাণু যখন তরঙ্গের মতো আচরণ করে, ওই তরঙ্গের ভেতর সে কই থাকে?
খেয়াল করেন, আমি যদি মিনিটে একটা করে পরমাণুও পাঠাই, ওই দেয়ালে ইন্টারফিয়ারেন্স প্যাটার্ন তৈরি হবে। তরঙ্গ যদি একই সাথে দুই দরজা দিয়ে যায়, শুধু তাহলেই ওই প্যাটার্ন তৈরি হওয়া সম্ভব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনাকে যদি ছোট করে ছুঁড়ে দেওয়া হয়, আর আপনার তরঙ্গ যদি একি সাথে দুই দরজা দিয়ে যায়, আপনি কই যাবেন?
ভাবছেন এত ঝামেলা করার কি দরকার? দুই দরজা দিয়ে দুইটা নাঈম ঢুকে কিনা দেখে ফেললেই তো হলো, দরজার উপর টর্চ লাগালেই তো চলে? বিজ্ঞানীরা ঠিক সে কাজটাই করলেন। ইলেকট্রনকে দেখার জন্য দুই দরজায় টর্চ বসালেন। কি দেখলেন?
ইলেকট্রন ভদ্র হয়ে গেছে। কখনও ডান দরজা দিয়ে যায় কখনও বাম, কিন্তু ভুলেও একই সাথে দুই দরজা দিয়ে না। সাথে সাথে দেওয়ালের প্যাটার্নগুলোও গায়েব। ইলেকট্রন একেবারে শান্ত শিষ্ট সুবোধ বালকের মতো নরমাল কণা হয়ে গেছে!
আমরা যখন দেখি না, কোয়ান্টাম জগতের বাসিন্দারা এমন আচরণ করে যেন তারা একই সাথে অনেক জায়গায় আছে। একই সাথে অনেক বেগে অনেক বেগে চলছে। একই সাথে ডানে আর বামে ঘুরছে।
ঠিক কি হয় যখন আমরা দেখি??
৩।
রাত ১২টা ৩০ মিনিটে শ্রডিঙ্গার বিড়ালের দরজা খুললেন। বিড়ালটা মরেছে। নাইস রিড্যান্স!
৪।
রাত ১২টা ৩০ মিনিটে শ্রডিঙ্গার বিড়ালের দরজা খুললেন। বিড়ালটা বেঁচে গেছে। নেক্সট টাইম বাডি, নেক্সট টাইম!
(চলবে)
