কোয়ান্টাম ১৮
এইটা ফান পর্ব
রেডিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, ওই রশ্মি আশেপাশের মৌলকে উত্তেজিত করে, সেখান থেকে আলো বের হয়। তেজস্ক্রিয়তা কিন্তু ভয়ানক জিনিস, একটু বেশী ডোজ হয়ে গেলে ক্যান্সার হবে। রেডিয়ামের আবিষ্কারক মেরি কুরি নিজেও ক্যান্সারে মারা যান।
প্রথম যখন রেডিয়াম আবিষ্কার হয় মানুষ এইসব জানত না, মনে করত এইটা সেই কিউট পাওয়ারফুল একটা জিনিস, লিটারেলি জ্বলজ্বল করছে। বের হওয়া শুরু হলো নানান জাটের রেডিয়াম প্রোডাক্ট।
দাঁতকে ঝিলিক মারতে চান? ব্যাবহার করুন ডরাম্যাড টুথপেস্ট। তেজস্ক্রিয় থোরিয়াম আছে দাঁত একেবারে জ্বলজ্বল করবে।

আপনি সৌন্দর্য সচেতন? আরও ফর্সা হতে চান? আপনার জন্য আছে থোরেডিয়াম ক্রিম। রেডিয়াম থোরিয়ামের ডাবল শক্তি। তক একেবারে ঝিলিক দিবে।
থোরেডিয়াম কোম্প্যানি বেশ নাম করলো। কিছুদিনের মধ্যে বাজারে আসলো রেডিয়ামের স্নো, পাউডার, লিপস্টিক!

খাবার বাদ যাবে কেন?
আরেক জার্মান কোম্প্যানি কিছুদিনের মধ্যে রেডিওআক্টিভ চকলেট বের করলো। নাম দেওয়া হলো রেডিয়াম শকোলেড। খেলে নাকি নতুন যৌবন পাওয়া যাবে। আসল শকটা মানুষ তখনো টের পায় নি।

মানুষ টের পেলো আরও কিছুদিন পর।
বাজারে তখন চলে এসেছে রেডিওঅ্যাক্টিভ পানি রেডিথর। সেই চলছে। এই পানি পান করলে চিরযৌবন থাকবে, স্মৃতিশক্তি ভালো হবে, বাতের ব্যাথা চলে যাবে, মানসিক অসুস্থতা কেটে যাবে, যৌন সক্ষমতা বাড়বে পাকস্থলীর ক্যান্সার ভালো হবে।

এবেন বায়ার্স নামের ধনী অ্যাথলেট ১৪০০ বোতল রেডিথর পানি খান। তাঁর নিচের চোয়াল খুলে আসে। কিছুদিনের মধ্যে তিনি মারা যান। তাঁকে কবর দেওয়া হয় পুরু সীসায় মোরা কফিনে।
ততদিনে হয়তো মানুষের টনক নড়েছিলঃ চকচক করলেই সোনা হয় না।