কোয়ান্টাম ৪০: কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ৩



কোয়ান্টাম ৪০
কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ৩

১।
এক সপ্তাহ পর মাল্টিভার্স নিয়ে আবার লিখছি। এতদিনে দেশ অজ্ঞতা আর কুসংস্কারে ভরে গেছে, মানুষ মাল্টিভার্সের সাথে এলিয়েন ধর্ম সব মিলিয়ে ফেলে খিচুরি পাকাচ্ছে আর নাসার ‘বিঙ্গানী’রা তাই দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে হা হুতাশ করছে!

যাই হোক, আগের দুইটা মাল্টিভার্স একটু ক্লিয়ার করি।
আগের সব পর্বের লিঙ্ক:
https://nayeem.science/category/physics/quantum-mechanics/

প্রথম ধরণের মাল্টিভার্স ছিল, মহাবিশ্ব যদি অসীম হয়, সম্ভাবনার নিয়ম অনুযায়ী বহু বহু দূরে আপনার একজন আইডেন্টিক্যাল টুইন থাকবে।
এইবার এলিয়েন নিয়ে দুই চার কথা বলি।

এখন পর্যন্ত কোন গ্রহে নিশ্চিতভাবে প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায় নি।
গেলেও, তাদের মধ্যে DNA নাও থাকতে পারে। তাদের বংশগতি নির্ধারিত হতে পারে অন্য কোন জৈব অণু দিয়ে।
DNA থাকলেও সেখানে ৪টা লেটার নাও থাকতে পারে।
আমাদের পৃথিবীর কথাই চিন্তা করেন। ধরেন গভীর সমুদ্রে নতুন একটা প্রজাতি আবিষ্কার হলো। কতটুকু সম্ভাবনা আছে সে প্রায় হুবহু মানুষের মত দেখতে হবে?
প্রায় শূন্য।

সে আর্থোপোডা পর্বের হলে তার হাজার হাজার চোখ মিলে পুঞ্জাক্ষি থাকবে। কিলবিলে শুঙ্গ থাকবে। অনেকগুলো পা থাকবে, শক্ত খোসা থাকবে। ব্রেইন থাকতে পারে কয়েকটা।

স্টারফিশ টাইপের হলে ব্রেইন থাকবে না। চোখ থাকবে না। দুই টুকরা হলে দুইটা নতুন প্রাণী জন্ম হবে।

স্লাইম মোল্ড টাইপের কিছু হলে থকথকে জেলির মত হবে। হাত পা চোখ মুখ কিচ্ছু থাকবে না।

নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতি হতে হবে এমন কোন কথা নাই। গাছ টাইপের হতে পারে। ব্যাঙের ছাতা হতে পারে।

এক পৃথিবীতেই এই অবস্থা আর এলিয়েন পাওয়া গেলে কি হবে? তার মানুষের মতো হওয়ার সম্ভাবনা কতো?
উত্তর হচ্ছে, প্রায় শূন্য।
কেপলার 22B তে এলিয়েন পাওয়া গেলে তার পৃথিবীর কোন প্রাণী, এমনকি গাছ পালা কোন কিছুর সাথে মিল না থাকার সম্ভাবনা অনেক।

মারভেল মুভি গুলোতে যেমন দেখায় গ্রহে গ্রহে মানুষের মতো এলিয়েন সেটা বাস্তবতা থেকে কয়েক মহাবিশ্ব দূরে।

২।
তাই যদি হয় তাহলে হুবহু আপনার মত দেখতে আরেকটা মানুষের কথা আসছে কোথা থেকে?
উত্তর হলো, অসীমের ধারণা থেকে।
মহাবিশ্ব যদি অসীম হয়, আর, মোটামুটি পুরোপুরি র‍্যান্ডম হয়, তাহলে বহু বহু দূরে জিনিসগুলো রিপিট হওয়া সম্ভব।
কতো দূরে?
আমাদের অব্জার্ভেবল ইউনিভার্স ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ ব্যাসার্ধের। আমরা যত দূরে দেখি, ততো অতীতে দেখি। ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে তাকালে আমরা বিগ ব্যাঙের অল্প পর প্রথম তৈরি প্লাজমা পদার্থের তৈরি একটা অস্বচ্ছ দেয়াল দেখি। এর ওপাশে দেখা যায় না। গেলে আমরা একেবারে বিগ ব্যাঙ পর্যন্ত দেখতাম।

Observable Universe in Logarithmic Scale

এই ৪৬ বিলিয়ন ব্যাসার্ধের গোলকটাকে আমরা বলি অব্জার্ভেবল ইউনিভার্স। এইরকম একের পরে 10^115 টা শূন্য বসালে যে অকল্পনীয় বিশাল সংখ্যা তবে, প্রায় ততোগুলো অব্জার্ভেবল ইউনিভার্স দূরে আপনার মতো আরেকটা মানুষ থাকার সম্ভাবনা আছে।

চিন্তা করেন সম্ভাবনাটা কতো কম।
মহাবিশ্ব অসীম না হলে, অথবা ইনফ্লেশান বা অন্য কোন কারণে অসীম সংখ্যক হতে হবে। নাহলে এই জিনিসের অস্তিত্ব অসম্ভব।
একজন মানুষ বাঁচে ৭০ ৮০ বছর।
চার আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রে পাড়ি জমাতে ভয়েজারের লাগবে ছিয়াশি হাজার বছর!!
আর আমরা চিন্তা করছি কোটি কোটি মহাবিশ্ব দূরের মানুষের সাথে দেখা করার!

তার সাথে দেখা হওয়া তো দূরের কথা কোনদিন যোগাযোগ হওয়াও সম্ভব না।
এতদূরে আলো যেতে যেতে মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে অথবা আরও অনেক অনেক বড় হয়ে যাবে।
তার উপর আমরা ভুলে যাচ্ছি, এখন পর্যন্ত কোন এলিয়েনের সাথেই আমাদের যোগাযোগ হয় নি।

হতাশ লাগে। ছোট্ট একটা অপরিচত গ্যালাক্সিতে ছোট্ট একটা হলুদ তারার পাশে অপরিচিত একটা নীল গ্রহের অসহায় প্রাণী আমরা, কত অচিন্তনীয় বিশাল একটা জগত পরে আছে দিগন্তের ওপাশে!

৩।
শুরু করেছিলাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে, এখন মনে হচ্ছে সেখান থেকে এক মহাবিশ্ব দূরে সরে এসেছি।
আগামী পর্বে আমরা আরও দুয়েকটা মাল্টিভার্স দেখে কোয়ান্টাম মাল্টিভার্সে ঢুকে যাবো।
একমাত্র এই মাল্টিভার্সই হাতের কাছে, বহু দূরে যেতে হবে না।

(চলবে)

One thought on “কোয়ান্টাম ৪০: কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ৩”

Leave a Reply