পিয়ানো
(কল্পবিজ্ঞান)
১।
অনেকদিনের পুরানা বাড়ি। এখানে ওখানে রং উঠে গেছে ধুলার পুরু আস্তর জন্মেছে চেলেকোঠায়। পুরো দেয়ালের রং উঠে গেছে, মেঝে থেকে নানান জায়গায় খসে গেছে কাঠের তক্তা।
ডক্টর স্টেইনব্রেকের জন্য অবশ্য আদর্শ জায়গা।
ভয়াবহ গোপন একটা প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি। তাঁর দরকার নির্জন একটা ল্যাবরেটরি। গভীর জঙ্গলে পুরনো এই বাড়িটা অনেক সস্তায় পাওয়া গেছে। বাড়িটাকে ঠিকঠাক করে মেশিনপত্র এনে বসালে সেটা হবে গবেষণা করার আদর্শ জায়গা।
তাছাড়া অনেকদিন আগে এই বাড়িটাতে এমনিতেও একটা ল্যাবরেটরি ছিল। এই বাড়ির পুরনো মালিক নানান জায়গায় তাঁর ছাপ রেখে গেছে। একপাশে একটা বিরাট বড় সার্জারির রুমও আছে। আশ্চর্য ব্যাপার হলো, আগের মালিক সযত্নে তাঁর সব কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছে, সে কি নিয়ে কাজ করত কোন প্রমাণ নেই।
বায়োলজি ল্যাব স্টেইনব্রেকের কতোটা কাজে কাগবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। তাঁর কাজ ফিজিক্স নিয়ে। এমন একটা আইডিয়া তাঁর মাথায় এসেছে যেটা আর কোনদিন কেউ ভাবতেও পারে নি।
বাড়িটায় ঢুকতে যাবেন, বাইরে দেখলেন বিরাট বড় কালো একটা ল্যাব্রাডর কুকুর। বড় বড় চোখ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। স্টেইনব্রেকের মায়া লাগল। ঘর থেকে একটা মাংসের টুকরা বের করে কুকুরটাকে দিলেন।
কুকুরটার মুখ দিয়ে ঘরঘর একটা শব্দ বের হলো।
২।
১০ বছর আগের কথা।
ভ্যান লিবনিয রাত জেগে কাজ করছেন। তাঁর চোখে বিদ্যুৎ ঝিলিক মারছে।
এমন একটা আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে তিনি যেটা পৃথিবীর কেউ কোনদিন কল্পনাও করতে পারে নি।
কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো এই আবিষ্কারের খবর মানুষকে জানতে দেওয়া যাবে না। কোনদিন না।
আর মাত্র কয়েকটা দিন। অলরেডি ইঁদুর, গিনিপিগ আর বানরের উপর পরীক্ষা করা হয়েছে। এবার দরকার মানুষ।
বাইরে কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করে উঠলো। এত রাতে কে এসেছে এই জঙ্গলে?
ভ্যান লিবনিজ এক মুহূর্ত ভাবলেন। তারপর পিস্তলটা নিয়ে বের হলেন। তাঁর চোখগুলো চকচক করে উঠল।
৩।
স্টেইনব্রেকের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। বাসার সামনে বিশাল মেশিনটা প্রায় দাড়িয়ে গেছে। স্টেইনব্রেক সারাদিন খাটাখাটনি করেন। তারপর ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক ঘণ্টা পিয়ানো বাজান। তাঁর দেহমনে এক ধরনের প্রশান্তি ছড়িয়ে পরে।
রাত গভীর। স্টেইনব্রেকের কি কারণে জানি ঘুম ভেঙ্গে গেল। শুনতে পেলেন নিচে পিয়ানোটা বাজছে। অবিকল তিনি যেই সুরে বাজান ওই একই সুর!
স্টেইনব্রেক চুপি চুপি নিচে নামলেন। তবু সিঁড়ি দিয়ে নামতে একটু শব্দ করে ফেললেন। সাথে সাথে পিয়ানোর শব্দ বন্ধ হয়ে গেল।

ভূতুরে জিনিস পরেও চিন্তা করা যাবে। কালকে তাঁর বিগ ডে, মহা সাফল্যের দিন। টাইম মেশিনটা প্রায় রেডি।
কাল তিনি অতীতে পারি জমাবেন। দশ বছর অতীতে।
যে কাজ কেউ কোনদিন করে নি, কোনদিন করবেও না।
৪।
ভ্যান লিবনিজ খুব খুশি।
ভিক্টিমকে ধরা পরেছে। তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছে সার্জারি রুমে।
এক খাটে ভিক্টিম, আরেক খাটে কুকুরটা বাঁধা।
কুকুরটার কাজ শেষ। একটা শেষ পরীক্ষা। তারপরই তার মুক্তি।
ব্রেইন ট্রান্সপ্ল্যান্টে এতদূর সফল এর আগে কেউ হয় নি। লিবনিজ এবার ইতিহাস গড়বেন।
এর আগে ইঁদুরের ব্রেইন গিনিপিগে লাগিয়েছেন, বানরের ব্রেইন বিড়ালে।
এবার মানুষের পালা।
কুকুরের ব্রেইনটাকে ফেলে দিতে হবে, কিচ্ছু করার নেই। তার বদলে অনেক ভালো আর দামী একটা ব্রেইন পেতে চলেছে সে।
৫।
গভীর রাত।
গহিন জঙ্গলে একেবারে নির্জন একটা বাড়িতে পিয়ানো বাজছে।
কেউ খেয়াল করলে দেখতে পেত কালো একটা ল্যাব্রাডর কুকুর অবিকল মানুষের ভঙ্গিতে দাড়িয়ে করুন সুর তুলে চলেছে পিয়ানোয়!
শিমুল
১০ বছর অতীতে গিয়ে লিবনিযের অপারেশন থামাবে স্টেইনব্রেক?
Radh Shamat
অপারেশন থামাতে পারে নি হয়তো, না হলে পরিণতি এমন হতো না।