আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি
(কল্পবিজ্ঞান)
১।
প্রফেসর অশীল অশান্তি এক মহা প্রতিভাধর মানুষ। তাঁর মাথায় প্রতি মুহূর্তে প্রতিভা ঝিলিক মারছে। অলরেডি এলাকাবাসী তাঁর ডাকনাম দিয়েছে প্রতিভা পাতিল।
অশীলবাবু নিয়মিত ভয়ঙ্কর সব আবিষ্কার করেন। একেকটা আবিষ্কারে দুনিয়া পালটে যায়। কিছুদিন আগে টাইম মেশিন তৈরি করে অতীতে যেয়ে হিটলারকে খুন করে এসেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেছে। দুনিয়া, লিটারেলি পালটে গেছে।
এখন রোবট বানাচ্ছেন। মানুষরূপী, সত্যিকারের কনশাস রোবট।
বহু বছর আগে অ্যালান টিউরিং বলে গেছেন কিভাবে বোঝা যাবে রোবট এখন মানুষের মতো কনশাস হয়ে গেছে। এক ঘরে মানুষ আর আরেকঘরে রোবট রাখতে হবে। কোন ঘরে কে আছে বাইরে থেকে জানা যাবে না। বাইরের মানুষ টাইপ করে প্রশ্ন করবে, ভেতর থেকে টাইপ করে উত্তর আসবে। যতক্ষণ খুশি প্রশ্ন উত্তর চালানো যাবে। শেষ পর্যন্ত, বাইরের মানুষ যদি বুঝতে না পারে কে মানুষ কে রোবট, ধরতে হবে মেশিন এখন মানুষের মতো হয়ে গেছে।

প্রতি বছর টিউরিং টেস্ট হচ্ছে। দিনে দিনে সময়সীমা বাড়ছে। এখন একেকটা টেস্ট হচ্ছে ২০ – ২৫ মিনিট করে। প্রতি বছরই কোন না কোন চ্যাটবট মানুষকে ফাকি দিয়ে জিতে নিচ্ছে লিবনার প্রাইজ।
২।
বদ্ধ ঘরে কিছু কি ওয়ার্ড ম্যাচ করে ১০ – ১৫ মিনিট মানুষকে ধোঁকা দেওয়া সহজ। আনলিমিটেড টাইম ধোঁকা দেওয়া অত সহজ না। সামনাসামনি আসলে সব ধরা পড়ে যাবে।
প্রফেসর অশান্তি কোন অশান্তি চান না। তিনি ঠাণ্ডা মাথার, কুল একজন মানুষ। তাঁর রোবট হবে পারফেক্ট।
3D প্রিন্ট করে প্রতিটা অঙ্গ বানানো হলো একেবারে মানুষের মতো করে।
তৈরি হলো হাত পা চোখ মুখ।
এবার মস্তিষ্কের পালা।
অশীল অশান্তি ইন্টিগ্রেটেড ইনফরমেশন থিওরির বই খুলে বসলেন।
IIT বলে, যদি মেকানিক্যাল নিউরনগুলো এমনভাবে জোড়া দেওয়া হয়, যে মানুষের ব্রেইনের মতো তার জটিলতা বারতেই থাকে, তাহলে ওই সিস্টেমটা হবে কনশান।
অশীল অশান্তি বুঝলেন। মেক্যানিক্যাল ব্রেইন বানাতে হবে। মানুষের ব্রেইনের মতো। আর কোনভাবে কনশাসনেস জন্ম হবে না।
এক বছর পর, মারাত্মক খাটাখাটনির পর, অশান্তি কাকে বলে হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে প্রফেসর অশীল অশান্তি জন্ম দিলেন অ্যাবুডিলের, পৃথিবীর প্রথম মানুষরূপী রোবট।
৩।
অশান্তির মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ। ১০ মিনিটের মাথায় অ্যাবুডিল টিউরিং টেস্টে ধরা খেয়ে গেছে। এতো চেষ্টা, এতো সাধনা সব পানিতে।
তাঁর প্রচণ্ড অশান্তি করতে ইচ্ছা করছে।
মেজাজ গরম করলে চলবে না, ভাবতে হবে। প্রফেসর অশান্তি এক কাপ চা আর এক গ্লাস ড্যানো চকলেট মিল্ক নিয়ে বসলেন। অ্যাবুডিলের কি নেই খুঁজে বের করতেই হবে।
৪।
এক বছর পরের কথা। আজকেও প্রফেসর অশান্তির মেজাজ খারাপ। আব্দুল ছেলেটাকে নিয়ে আর পারা গেল না।
প্রত্যেকদিন একটা না একটা অঘটন ঘটাচ্ছে।
কালকে গ্রিল চিকেন আনতে বলাতে কিনে এনেছে জানালার গ্রিল আর দেশি মুরগি।
আজকে পাঠিয়েছেন চিনিগুড়া চাল কিনতে। গর্ধভটা নির্ঘাত এখন চিনির গুড়া চালে মেশাতে বসে গেছে।
প্রফেসর অশান্তি অ্যাবুডিলের কি নেই সেটা ধরতে পেরেছিলেন। পৃথিবীর মানুষরা বুদ্ধিমান না, তারা স্টুপিড। অ্যাবুডিলের দরকার আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি।
অ্যাবুডিল তাই এখন আব্দুল।
(কনশাসনেস বিষয়ে বিজ্ঞান কি বলে সেটা পাওয়া যাবে লেখকের বিজ্ঞানে অজ্ঞান বইতে। লিঙ্কঃ https://www.rokomari.com/book/178788/biggane-oggun)
Hridoy Hoque
😂 ageo porsilam . hahaha.
Isnt important
Thanks for gifting this web site to us . There is a saying that “ The best thing you can gift to a person is your precious time ”
You are doing the same .
Nayeem
Thanks a lot 🙂