কোয়ান্টাম ৮: ব্যাক টু দ্যা ফিল্ড



কোয়ান্টাম ৮
ব্যাক টু দ্যা ফিল্ড

১।
ফিল্ড কি জিনিস? খায় নাকি মাথায় দেয়? নাকি বল খেলে?
মাইকেল ফ্যারাডে ভাবছে। তার মাথায় অনেক ভাবনা।

ফ্যারাডে বড় হয়েছে অত্যন্ত গরীব ঘরে। ১৩ ১৪ বছর বয়সে স্কুল বাদ দিয়ে তাকে একটা লাইব্রেরিতে বই বাঁধাইয়ের কাজে যোগ দিতে হয়। যে বইগুলো সে বাধাই করত সেগুলো তাকে চুম্বকের মত টানত। ফ্যারাডে বই বাঁধাই করত আর বই পড়ত। ২০ বছর বয়সে সে যখন বই বাঁধাইয়ের কাজ ছেড়ে যায়, তখন সে আপনার আমার চেয়ে অনেক বিষয়ে বেশি শিক্ষিত।

আরেকটা জিনিস  ফ্যারাডেকে চুম্বকের মত টানত, সেটা হলঃ চুম্বক। ফ্যারাডে চুম্বক নিয়ে খেলত। কাগজে চুম্বক রেখে লোহার অনেকগুলো লোহার গুঁড়া ছড়িয়ে সে দেখল এই গুঁড়াগুলো কিভাবে চুম্বকের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। প্যাটার্ন দেখে সে একটা চুম্বকের বল কিভাকে কাজ করে তাঁর একটা ছবি আঁকলো। দেখে মনে হয় চুম্বক বল কোন একটা মেরু থেকে বের হয়ে চারিপাশে ছড়িয়ে পরছে। ফ্যারাডের কাছে এই লাইনগুলো ছিল রিয়েল জিনিষ, কিছু একটা আসলেই আছে যে বরাবর এই চুম্বক বল কাজ করে। ওই কিছু একটার নাম ফোর্স ফিল্ড।

আজকে ফ্যারাডে আপনাদের বলবে ফিল্ডের গল্প।

২।
পৃথিবী আমাদেরকে টানে মহাকর্ষ বল দিয়ে। কিভাবে টানে?
মনে করেন আপনি পৃথিবী। আপনার অনেক ভর। ভরে ভরে ভারি হয়ে আছেন।
আপনার যে অনেক ভর এটা তো মানুষকে দেখাতে হবে, হবে না? আপনি প্রতি সেকেন্ডে আশেপাশে চিঠি পাঠাতে শুরু করলেন  আপনার ভরের গল্প লিখে। আপনার চারপাশ থেকে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার ট্রেইন রওনা দেয় চিঠি বোঝাই হয়ে।
একটা ট্রেইন ডানে যায়।
একটা বামে।
উপরে যায়, নিচে যায়, সবদিকে যায়।
আপনার চারপাশ থেকে আলোর বেগে চারপাশে ছড়িয়ে পরে ফিল্ডের ট্রেইন। ট্রেইন বোঝাই চিঠিঃ পৃথিবী তার ভর শো অফ করছে, দেখতে হলে পৃথিবীর কাছে যাও।

Earth Gravitational Field

যে মহিলাটা পৃথিবীর পাশের বাসায় থাকে (চাঁদের বুড়ি), তার গায়ের উপর দিয়ে অনেকগুলো ট্রেইন যায়। সে দশটা বিশটা করে চিঠি পায়।  পৃথিবীর ভরের গল্পে সে প্রবল আকর্ষণ বোধ করে।
দূরের জুপিটার চিঠি পায় খুবই কম। পৃথিবীর ভর সে খুব একটা কেয়ারও করে না।

যে পৃথিবী থেকে ১ কিলোমিটার দূরে আছে তার গায়ের উপর দিয়ে যদি ১০০টা ট্রেইন যায়, যে দুই কিলো দূরে আছে তার গায়ের উপর দিয়ে যাবে ২৫টা। তিন কিলো দূরের লোক ট্রেইন দেখবে প্রায় ১১টা।  মহাকর্ষ তাই দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতে কমতে থাকে।

ফিল্ডের ট্রেইন শূন্যের মধ্য দিয়ে বলের বার্তা পৌঁছে দিয়ে আসে দূর দূরান্তে। আপনি ১০টা চিঠি পাবেন, ১০ গুন উৎসাহে রওনা দিবেন পৃথিবীর দিকে।

Sun Magnetic Field

৩।
পৃথিবী মহাকর্ষ ফিল্ড ছড়াচ্ছে। ইলেকট্রন ছড়াচ্ছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড।
পৃথিবী অহংকারী হলেও ভালো মানুষ। তার চিঠিতে লেখা থাকে, তোমরা যেই হও, দেখে যাও, আমি কত সুন্দর, সরি, ভারি।
ইলেকট্রনের ওই ফিল্ড অত ভালো না। ওখানে লেখা থাকে, তুই ইলেকট্রন হলে দূরে গিয়ে মর। আর পজিটিভ জিনিস হলে কাছে আয়।
ঝামেলা হবে, ফিল্ড ছড়ানোর পর ওই ফিল্ডের মধ্যে নিজেই গোল করে ঘুরা শুরু করলে।

ইলেকট্রন একটু আগে ফিল্ড ছড়িয়েছে। একটু পর গোল করে ঘুরতে ঘুরতে নিজেই ওই ফিল্ডের মধ্যে যাবে, আর লেখাটা পড়বে, তুই ইলেকট্রন হলে দূরে গিয়ে মর!
একটু আগে নিজের ছড়ানো ফিল্ড ইলেকট্রনকে ধাক্কা দিবে। ওই ধাক্কা ঠেলে চলতে গেলে তার গতি কমে যাবে। সে গতিপথ থেকে ছিটকে একটু ভেতরের দিকে চলে আসবে। আবার চলার চেষ্টা করবে, আবার ধাক্কা খাবে।

ইলেকট্রন গোল করে ঘুরবে। তার চারপাশে ফিল্ডের লাইনগুলো কাঁপবে। এই কাঁপুনি চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। জন্ম হবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভের।

জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল হিসাব কষে দেখিয়েছেন কিভাবে ইলেকট্রিক ফিল্ড চেঞ্জ হলে ম্যাগনেটিক ফিল্ড চেঞ্জ হয়, ম্যাগনেটিক হলে আবার ইলেকট্রিক। আলোর বেগে আলো ছড়িয়ে পড়ে  চারপাশে। আমরা বলব, খুব হ্যাপি একটা ইলেকট্রন আলো দিয়ে বেড়াচ্ছে।

আর ওইদিকে ফিল্ডের ধাক্কা খেয়ে খেয়ে স্পাইরালের মতো ঘুরতে ঘুরতে বেচারা ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসে যেয়ে পড়বে।

এক সেকেন্ডের কয়েক কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল ধ্বংস হয়ে যাবে। বুম।

(চলবে)

Leave a Reply