কোয়ান্টাম ২৪: হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র: প্রথম পর্ব



কোয়ান্টাম ২৪
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্রঃ প্রথম পর্ব

১।
ফ্রডো ব্যাগিন্স বসে আছে প্রবল শক্তিশালী মায়াবিনী কুইন গ্যালাড্রিয়েলের সামনে। তার গলায় একটা চেইনের সাথে ঝুলছে ভয়ঙ্কর অভিশপ্ত আংটি, দ্য ওয়ান রিং।
এই আংটির সাথে সাথে ঝুলছে পৃথিবীর ভাগ্য।

ফ্রডো যদি হাজার হাজার নিষ্ঠুর দৈত্য দানবের থাবা এড়িয়ে, বহু রক্তাক্ত যুদ্ধপ্রান্তর পেরিয়ে, অন্ধকার গুহা আর অশুভ জলাভূমিতে রহস্যময় সব অতৃপ্ত আত্মাদের নজর এড়িয়ে আংটিটাকে মাউন্ট ডুমের অগ্নিশিখায় নিয়ে ফেলতে পারে, তবেই বাঁচবে মিডল আর্থ।

নাহলে ডার্ক লর্ড সাউরন হাতে পেয়ে যাবে ওই আংটি। শুরু করবে তার ত্রাসের রাজত্ব।
পৃথিবীটা চলে যাবে নষ্টদের দখলে!

গ্যালাড্রিয়েল ফ্রডোকে এনেছে জাদুর আয়নার সামনে। ওই আয়নায় ভবিষ্যৎ দেখা যায়। কুইন গ্যালাড্রিয়েল অনেক বছর ধরে, অনেক প্ল্যান প্রোগ্রাম করে ওই জাদুর আয়না তৈরি করেছেন। আজকে ফ্রডোকে দিয়ে তার উদ্বোধন হবে।

ফ্রডো তাকাল। কুইন গ্যালাড্রিয়েল আগ্রহ নিয়ে ফ্রডোর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
আয়নার দিকে তাকিয়ে ফ্রডোর চোখদুটো বড় বড় হলো। নিশ্বাসের গতি বেড়ে গেলো। গ্যালাড্রিয়েল মনে মনে খুশি হলেন। আয়নাটা কাজ করেছে। নিজের ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নার্ভাস ফিল করাটা স্বাভাবিক ব্যাপার।

ধীরে ধীরে ফ্রডোর মুখভঙ্গি বদলে গেলো। ভয় কেটে গিয়ে সেখানে যোগ হলো কৌতুক, শেষ পর্যন্ত ক্রোধ। কুইন গ্যালাড্রিয়েল নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলেন না, যখন শুনলেন,
“F… you!! Do I look like a joke to you??”

গ্যালাড্রিয়েলের বলতে ইচ্ছা করলো,
“Of course you do, little one, because, why not?”

অনেক কষ্টে নিজেকে সংবরণ করলেন। হারামজাদা ইঞ্জিনিয়ারগুলোকে এতো টাকা দিয়ে এতো বছর ধরে পুষছেন। মিডল আর্থের সব জায়গায় এতো দামী দামী সেন্সর বসিয়েছেন। সব কিছু এই আয়নাটার জন্য। এর কাজ ছিল প্রতিটা কণার অবস্থান আর গতিবেগ মেপে মেপে, বিশাল শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারে হিসাব করে একেবারে নিখুঁত ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া। শেষ পর্যন্ত কি করেছে সে?

গ্যালাড্রিয়েল আয়নাটার দিকে তাকালেন। হাজার হাজার ‘ভবিষ্যৎ’ এর ছবি ভাসছে সেখানে। ফ্রডোর ভয় কেটে গেছে। সে একটা একটা করে ছবি স্লাইড করে দেখছে আর খ্যাক খ্যাক করে হাসছে।

সাউরন লেজার দিয়ে ফ্রডোকে ফ্রাই করছে।

সাউরন পা দিয়ে ফ্রডোকে পিষছে।

সাউরন আর ফ্রডো গলা জড়াজড়ি করে বসে কলা খাচ্ছে।

সাউরন আর ফ্রডো হাতে চারকোনা আয়নার মতো কি জানি একটা নিয়ে তাকিয়ে আছে। ফ্রডোর সাদা দাঁত আর সাউরনের কালো দাঁত দুইটাই হাসিতে ঝকঝক করছে।

গ্যালাডিয়েলের বসে বসে কাঁদতে ইচ্ছা করলো। হারামজাদা আয়নাটা অল পসিবল ফিউচার দেখাচ্ছে। এতবার করে ইঞ্জিনিয়ারদের বললেন নিউটনের সূত্র ভালো করে পড়তে। নিউটন বলে গেছেন, যদি সবগুলো কণার অবস্থান আর ভরবেগ নিখুঁতভাবে জানা যায়, ভবিষ্যৎ নিখুঁতভাবে জানা যাবে।
‘নিখুঁত’ এর গুষ্টি কিলাই। ছাগলের বাচ্চারা কি করেছে বুঝাই যাচ্ছে। গ্যালাড্রিয়েল টেলিপ্যাথিক মাধ্যমে ফোন লাগালেন।

২।
“সরি ম্যাম, আপনাকে তো অনেকবার বললাম নিউটনের সূত্র ঠিক মতো কাজ করে না। আপনি তো শুনলেন না। ”

“নিউটনের সূত্র কাজ করে না?? আর ইউ কিডিং মি??”

“সরি ম্যাম, একটু বোঝাতে ভুল করেছি। নিউটনের সূত্র মেনে  একটা কণার অবস্থান পুরোপুরি নিখুঁতভাবে বের করতে গেলে তার ভরবেগ পুরাপুরি র‍্যান্ডম হয়ে যায়। ভরবেগ বের করলে অবস্থান র‍্যান্ডম হয়ে যায়। আপনাকে তো বহুবার বলেছি এই কথা। এইটা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র। ভবিষ্যৎ বের করা সম্ভব না। ”

“হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র???”
“জী ম্যাম। আপনি যদি নিখুঁতভাবে জানতে পারেন একটা কণা উত্তরে যাচ্ছে নাকি দক্ষিণে যাচ্ছে, সে এই মুহূর্তে কোথায় আছে জানতে পারবেন না। যদি নিখুঁতভাবে জানতে পারেন সে ঢাকায় আছে না রংপুরে, জানতে পারবেন না সে উত্তরে যাচ্ছে না দক্ষিণে যাচ্ছে। ইজ ইট ক্লিয়ার ম্যাম?”

“ওয়েল ফা* ইউ। ”
“সরি ম্যাম, শুনতে পাই নি, নেটের স্পিড খারাপ। টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ দিনে কত এম বি খায় হিসাব আছে? কতবার বললাম একটু স্পিড বাড়াতে …”

কুইন গ্যালাড্রিয়েলের মাথা ধরে এলো। তিনি ফোন কেটে দিলেন। তাকে আরও লেখাপড়া করতে হবে। অঙ্ক বুঝতে হবে। ফিজিক্স বুঝতে হবে। ম্যাজিকের যুগ শেষ।
গ্যালাড্রিয়েল পড়তে বসলেন।
অনিশ্চয়তা বুঝতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম।

(চলবে)

2 thoughts on “কোয়ান্টাম ২৪: হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র: প্রথম পর্ব”

  • Hahahahh valo laglo. Ai haizn bagar theory ta valo kora dakta hoba. Karon ai theory ta kicui akta theory lokeya aca. Ai theory ta joto small mony hoy to to small noy. Valo kora dakta hoba. Electron ar velocity.

Leave a Reply