চাঁদে বিপর্যয়
এই নিয়ে ৬বার মানুষ চাঁদে গিয়েছে, ১২ জন চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে। অ্যাপোলো ১১ নিয়ে যে গুজবগুলো প্রচলিত আছে সেগুলো ডিবাঙ্ক করে অনেক লেখালেখি হয়েছে, মিথবাস্টারে একটা পর্ব আছে এসব নিয়ে। আজ ওসব নিয়ে লিখতে মন চাচ্ছে না।
পৃথিবী থেকে তিন লক্ষ চুরাশি হাজার কিলোমিটার দূরে রুক্ষ বিরান চাঁদের বুকে যাত্রা করাটা একটা ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক কাজ। উল্কা লেগে রকেট ধ্বংস হয়ে যেতে পারতো, একটু গোলমাল হলে পুরা স্পেসশিপটা আগুনের গোলায় পরিণত হতে পারতো। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে ঘটনাটা ঘটতে পারতো সেটা হলো, চাঁদে ল্যান্ড করার পর কোন কারণে তারা আর ব্যাক করতে পারলো না।
হয়তো ঈগল নষ্ট হয়ে গেলো। হয়তো অ্যাপোলো ১১র ইঞ্জিনে কোন সমস্যা দেখা গেলো। যে কারণেই হোক, তাদের ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেলো। একবার সিচুয়েশানটা চিন্তা করেন। পৃথিবী থেকে বহু বহু দূরে একটা উশর মরুর দেশে চির অন্ধকার আকাশের নিচে আটকা পরেছেন, আপনার সাথে আছে অল্প একটু অক্সিজেন, হয়তো সামান্য খাবার। কোনভাবেই আপনাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না, আপনার মৃত্যু নিশ্চিত।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে কি বলতে হবে, সেটা আগে থেকে ঠিক করা ছিল। নিক্সনের সেই অপ্রকাশিত ভাষণটা এরকমঃ
“ভাগ্যের বিধান, তাই যে মানুষগুলো চন্দ্রবিজয় করতে গিয়েছিল শান্তিতে, তাদের নিয়তি হচ্ছে চাঁদের বুকে চির শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকা।
এই সাহসী মানুষগুলো, নীল আর্মস্ট্রং আর এডউইন অল্ড্রিন জানে যে, তাদের উদ্ধার করার কোন উপায় নেই। তারা এও জানে, তাদের এই আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য আশার দিশারি হয়ে থাকবে।
এই দুটি মানুষ তাদের জীবন উৎসর্গ করতে যাচ্ছে মানুষের সবচেয়ে মহৎ লক্ষটা অর্জনের জন্যঃ সত্য আর জ্ঞানের অন্বেষণ।
তাদের জন্য দুঃখ করবে তাদের পরিবার পরিজন, তাদের বন্ধু বান্ধব, দেশের মানুষ। আর দুঃখ করবে পৃথিবী মাতা, যে তার দুই সন্তানকে অজানার অন্ধকারে পাঠিয়ে দেওয়ার সাহস করেছিলো।

তাদের অভিযাত্রা যেমন পুরো পৃথিবীকে একসাথে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তাদের করুন আত্মত্যাগ তেমনি একসাথে বেঁধে রাখবে পুরো জগতকে।
অনেকদিন আগে মানুষ যখন আকাশের দিকে তাকাত, আকাশের তারায় তারায় তারা খুঁজে ফিরত তাদের হিরোদের। এখনও আমরা একই কাজ করবো। শুধু আমাদের হিরোরা দেবতা নয়, তারা রক্ত মাংসের মানুষ।
এরপর তাদের পথ ধরে আরও অনেকে আসবে। তারা হয়তো ঠিক বাড়ি ফিরতে পারবে। মানুষের অনুসন্ধান কখনো থেমে থাকবে না। কিন্তু এই মানুষগুলো ছিল প্রথম, তারা আমাদের বুকের মাঝে সবচেয়ে উপরে থাকবে। আজ থেকে যত মানুষ রাতের আকাশে চাঁদের দিকে তাকাবে, তারা জানবে, বহু বহু দূরে ওইটা আরেকটা জগত যেখানে চিরদিন থাকবে মানব জাতির একটা অংশ। ”
এরপর আর্মস্ট্রংদের মৃত্যু কিভাবে হবে তার ঠিক নেই। তারা হয়তো খাবারের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরত। অথবা আত্মহত্যা করত।
একটু পরে তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্ল্যান ছিল। তারপর একজন ধর্মযাজক তাদের ‘বিদেহী’ আত্মার জন্য প্রার্থনা করতেন, সাগরে জাহাজডুবি হলে যে ধরণের প্রার্থনা করা হয়।