DSLR বেসিক



DSLR বেসিক

আমার একটা DSLR আছে। নাইকন ডি৭২০০। ২ দিন পর পর টুর দেই, ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেরাই। মানুষের ছবির দিকে আমার ঝোঁক কম, মানুষের ছবি হোলেও বন্ধু মান্ধব কলিগের ভাব নিয়ে তোলা ঝলমলে ছবির ব্যাপারে আগ্রহ কম। আমি তুলি লতা পাতা ফুল ফলের ছবি, মাঠ ঘাট ঝোপ ঝাড় পাহার পর্বতের ছবি আর পোকা মাকড়ের ক্লোজ আপ। আজকাল মানুষজন বুঝে গেছে আর বিরক্ত করে লাভ নাই, একে ডাকলেও ছবি তুলবে না, আমিও মোটামুটি শান্তিতে আছি। এই ক্যামেরা নিয়ে একেবারে কোন পোস্ট না দিলে ক্যামেরাটার প্রতি অবিচার করা হবে, আবার পোস্ট দিলে নিজের ছবির ঢোল পিটানো যাবে, তাই এক লেখা।

DSLR কথাটার মানে হোল Digital Single Lens Reflex. DSLR এ যে ছবি সেন্সরে আসে, সেই একই ছবি কয়েকটা আয়না অথবা প্রিজমে ঘুরে ফিরে ভিউফাইন্ডারে আসে। একটামাত্র লেন্স দিয়ে 2 জায়গায় ছবি আসে জন্য এর নাম Digital Single Lens Reflex । DSLR এও মোবাইলের মত লাইভ ভিউ ইউজ করা যায়। কিন্তু DSLR এর সেন্সর মোবাইলের সেন্সরের চেয়ে ৭-৮গুন বেশি বড়। এত বড় একটা সেন্সরে অনেকক্ষণ ধরে সেন্স করলে ব্যাটারই তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। তাই বেশিক্ষণ লাইভ ভিউ চালু রাখা উচিত না। একটা স্ট্যান্ডার্ড DSLR এর সেন্সর সাইজ কর্ণ বরাবর ৩৫ মিমি. ৩৫ মিমি. ফিল্মের সাথে মিলিয়ে এই সাইজ ঠিক করা হয়েছে। আমার D7200 এর সেন্সর ছোট, ৩৫ কে ১.৫ দিয়ে ভাগ করলে যা হয় তাই। তাই একে বলে 1.5x ক্রপ সেন্সর। ৩৫ মিমি. সেন্সরকে বলে ফুল ফ্রেম। এর পরের সব হিসাব ফুল ফ্রেমের জন্য বলব।

সেন্সরে কত পিক্সেল আছে তার উপর যেমন ছবির কোয়ালিটি নির্ভর করে, তেমনি নির্ভর করে প্রতিটা পিক্সেলের সাইজের উপর। বেশি ছোট হয়ে গেলে পিক্সেলগুলোতে নয়েজ হয়, ছবির kOaliTi ভালো হওয়ার বদলে আরও খারাপ হয়। DSR এর অনেক বড় সেন্সর হলেও পিক্সেল সংখ্যা ১৮ থেকে ২৪ মেগাপিক্সেলের চেয়ে বেশি হয় না।

DSLR এ লেন্স আলাদা লাগাতে হয়। লেন্সের ভিতর অনেক অপটিক্যাল লেন্স, মিরর ইত্যাদি থাকে। এদেরকে অপটিক্যাল এলিমেন্ট বলে। DSLR এই অপটিক্যাল এলিমেন্টগুলর অবস্থান চেঞ্জ করে লেন্সকে বড় ছোট করে জুম করতে পারে।

কোন জিনিস কত বড় দেখবেন সেটা ডিপেন্ড করে লেন্সের ফোকাল লেংথের উপর। একটা ৫০ মিমি. লেন্স দিয়ে ১০ ফুট দূর থেকে একটা ৬ ফুট লম্বা মানুষের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ছবি তোলা যায়। একি ছবি ১০০ মিমি. লেন্স দিয়ে তুলতে হলে আপনাকে ২০ ফুট দুরে যেতে হবে। ২০০ মিমি. এর ক্ষেত্রে ৪০ ফুট। যে লেন্সের ফোকাল লেংথ চেঞ্জ করা যায় না তাকে বলে প্রাইম লেন্স। বাকিগুলো জুম বা নন প্রাইম লেন্স। ফোকাল লেংথ ৫৫ এর বেশি হলে অনেক দূর থেকে ছবি তোলা যায়। আমরা বলি, টেলিফটো লেন্স। অল্প ফোকাল লেন্স দিয়ে ল্যান্ডস্কেপ ভালো আসে, অনেক জায়গা কাভার করে বলে এদের নাম ওয়াইড লেন্স।

লেন্সের ফোকাল লেংথ ছাড়াও মিনিমাম ডিস্ট্যান্স এর একটা ব্যাপার আছে। যে লেন্স, তার মিনিমাম দূরত্বে, কমপক্ষে সেন্সরেরে সমান একটা জিনিস দিয়ে পুরো সেন্সর ফিল করতে পারে তাকে বলে ম্যাক্রো লেন্স। পোকামাকড়ের ছবির জন্য এই ধরনের লেন্স লাগে।

ক্যামেরার সেন্সরের মতো লেন্সেরও একটা রেজোলিউশান থাকে, একেও পিক্সেলে প্রকাশ করা যায়। লেন্সের রেজোলিউশান মানে, খুব কাছাকাছি ২টা সুতাকে আলাদা করার ক্ষমতা। লেন্সের রেজোলিউশান কম হলে ছবি ঘোলা হবে, সেন্সরের রেজোলিউশান বেশি হয়েও লাভ হবে না।

লেন্সের খুব ইম্পরট্যান্ট একটা প্রপার্টি হোল অ্যাপারচার। একে f/a আকারে লেখা হয়। অ্যাপারচার মানে হোল লেন্স কতটুকু ওপেন হবে। যত বেশি অ্যাপারচার হবে তত বেশি আলো ঢুকবে সেন্সরে। f/1 মানে অ্যাপারচার অনেক বেশি, f/32 মানে অনেক কম। অ্যাপারচার বেশি হলে আলো অনেক বেশি অ্যাঙ্গেল করে ঢুকবে, তার ফলে পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড বেশি করে ব্লার হয়ে যাবে। আপনি যদি সাগরের সামনে দাড়িয়ে ছবি তুলতে চান তাহলে অ্যাপারচার বেশী রাখলে কিন্তু সাগর ব্লার হয়ে যাবে। অ্যাপারচার ছাড়াও, যত বড় ফোকাল লেংথ তত বেশি ব্লার হবে। সাবজেক্ট যত কাছে থাকবে তত বেশি ব্লার হবে।

কতক্ষণ ধরে ক্যামেরার সাটার ওপেন থাকে তাকে বলে সাটার স্পিড। যত বেশিক্ষণ আলো ঢুকবে, ছবি তত উজ্জ্বল হবে। আপনি যদি উড়ন্ত পাখির ছবি তুলতে চান সাটার স্পিড খুবই কম হতে হবে, 1/4000 সেকেন্ডের মতো। আবার আপনি ৩০ সেকেন্ড ধরে সাটার ওপেন রেখে রাতের আকাশের ছবি তুললে দেখবেন প্রতিটা তারার নড়াচড়া বুঝা যাবে।

তার মানে, বেশি অ্যাপারচার মানে বেশি আলো। কম শাটার স্পিড মানেও বেশি আলো। অ্যাপারচার বাড়ালে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার হবে। শাটার স্পিড কমালে সাবজেক্ট নড়ে চড়ে যাবে। আপনি যদি ২টার কোনটাই না চান, তাহলে ৩য় আরেকটা অপশন আছে আপনার হাতে: সেন্সরের সেন্সিটিভিটি বাড়ানো। এর নাম ISO. সেন্সিটিভিটি বাড়ালে আপনি অল্প আলোতেই শাটার স্পিড বাড়িয়ে ছবি তুলতে পারবেন। কোন কিছুই ফ্রি না। ISO বাড়ালে সিগন্যাল টু নয়েজ রেশিও বেড়ে যায়, ছবি নয়েজি হয়।

DSLR এর ফুল ম্যানুয়াল মুডে আপনি অ্যাপারচার, ISO, শাটার স্পিড ৩টাই কন্ট্রোল করতে পারবেন। অটো মুডে কিছুই করা লাগবে না, সব ক্যামেরা নিজেই হিসাব করে নিবে।

ISO, মেগাপিক্সেল এগুলো ক্যামেরার সেন্সরের প্রপার্টি। যে ক্যামেরা ISO বাড়িয়েও নয়েজ কম রাখতে পারে তার সেন্সর অনেক ভালো। সেন্সরের আরও ২টা গুরুত্বপূর্ণ প্রপার্টি হোল কালার ডেপথ আর ডায়নামিক রেঞ্জ। কালার ডেপথ মানে হোল একটা ছবিতে সে কতগুলো আলাদা রঙ আনতে পারে। ডায়নামিক রেঞ্জ মানে হোল একি ছবির উজ্জ্বলতম অংশ আর অনুজ্জলতম অংশের পার্থক্য ম্যাক্সিমাম কত হতে পারবে। মোবাইলের ডায়নামিক রেঞ্জ কম। সে আকাশ তুলতে গেলে মাটি কালো করে দেয়। মাটি তুলতে গেলে আকাশ সাদা করে দেয়। DSLR এর ডায়নামিক রেঞ্জ মোবাইল থেকে অনেক ভালো। আর মানুষের চোখের ডায়নামিক রেঞ্জ ফাটাফাটি লেভেলের।

মোটামুটি এই হচ্ছে DSLR এর বেসিক। বিশাল লম্বা আর্টিকেল এর জন্য দুঃখিত। ২ পর্বে টানতে চাই নি।

Leave a Reply