কোয়ান্টাম ৩৯: কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ২



কোয়ান্টাম ৩৯

কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ২

উৎসর্গঃ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে থাকা অগণিত মহাপ্রতিভাধর বিজ্ঞানীদের, যারা পপ সায়েন্সের দুই পাতা আর কুঁড়িয়ে পাওয়া  মুড়ির ঠোঙ্গায় লেখা দুই প্যারাগ্রাফের আর্টিকেল পড়ে বিজ্ঞানের সব কিছু বুঝে ফেলেন, তারপর নিউটন আইনস্টাইনদের গুষ্টি উদ্ধার করে প্রবন্ধ রচনা শুরু করেন।

১।

নানাম ধরণের মাল্টিভার্স এবং প্যারালাল ইউনিভার্সের ধারণা প্রচলিত আছে।

সংক্ষেপে বলি

ধরণ ১ঃ

মহাবিশ্ব অসীম কিনা আমরা জানি না। যদি অসীম হয়ে থাকে, তাহলে সম্ভাব্যতার নিয়ম অনুযায়ী, এই পৃথিবী থেকে বহু বহু দূরে, আমাদের মতোই আরও এক সৌরজগত থাকতে পারে, যেখানে আরেকটা নাঈম বসে মোবাইল টিপছে।

ভয়ঙ্কর ধারণা। ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

আমরা জানি, পৃথিবীর প্রতিটা ইলেকট্রন আসলে হুবহু একই রকম। এদের ভর, চার্জ, স্পিনের মান, সবই সমান।

তেমনি ভাবে, সবগুলো আপ কোয়ার্ক একই রকম, ডাউন কোয়ার্কও একই রকম।

এইবার আমি যদি দাবী করি, হাইড্রোজেন পরমাণু তো একটা ইলেকট্রন আর তিনটা কোয়ার্কের তৈরি একটা প্রোটন দিয়ে তৈরি। সবগুলো হাইড্রোজেন পরমাণু কি এক রকম?

উত্তর হচ্ছে, না।

হাইড্রোজেন পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রনটা বিভিন্ন স্তরে থাকতে পারে, কোয়ার্কগুলোরও শক্তির পার্থক্য হতে পারে। তাই র‍্যান্ডম ভাবে দুইটা হাইড্রোজেন পরমাণু নিলে সেগুলো হুবহু একই রকম হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তারপরও, অনেকগুলো হাইড্রোজেন পরমাণু হাতে নিলে, দেখা যাবে এদের কয়েকটা হুবহু একই রকম।

একটা জিনিস যত বড় হয়, ততো জটিলতা বাড়তে থাকে। হাইড্রোজেনের বদলে যদি সোডিয়াম পরমাণু নেই, একই রকম দুইটা সোডিয়াম পরমাণু পেতে হলে আমাদের আরও অনেক সোডিয়াম পরমাণু থাকতে পারে। কারন সোডিয়াম পরমাণুর ১১টা ইলেকট্রন একেকটা একেক স্টেটে থাকতে পারে।

তারপরও, অনেকগুলো সোডিয়াম পরমাণু হাতে নিলে, দেখা যাবে এদের কয়েকটা হুবহু একই রকম।

একটা জিনিস যত বড় হয়, তার একই রকম হওয়ার সম্ভাবনা তত কমতে থাকে। কিন্তু আমরা তো অসীম নিয়ে কথা বলছি। আমাদের আছে অসীম সংখ্যক পরমাণু। অসীম সংখ্যক গ্রহ। অসীম সংখ্যক সৌরজগত।

তাই যদি হয়, এই অসীম সংখ্যক গ্রহের মধ্যে কোন কোনটা হবে পৃথিবীর মতো। তাদের মধ্যেও অতি অল্পকিছুর ক্ষেত্রে এমন হবে যে, পুরো সৌরজগত আমাদের সৌরজগতের কপি, শুধু আকাশে গ্রহ নক্ষত্রগুলো আলাদা।

যদি আরও খুঁজি, একসময় না একসময়, আমাদের অব্জার্ভেবল ইউনিভার্সের হুবহু একটা কপি আমি পেয়ে যাবো।

সেখানে আমি আছি, আপনি আছেন, আরও অনেকে আছে।

অসীমের শক্তি ভয়ানক। এই ইউনিভার্সগুল কয়েকটা হয়তো হবে আমাদের মতো, কিন্তু হুবহু না। হয়তো আপনি আছেন, কিন্তু আপনার গার্ল ফ্রেন্ড সেখানে নেই। হয়তো সেখানে রাতের আকাশে দুইটা চাঁদ ওঠে। দিন রাত্রি হয় ২৩ ঘণ্টায়।

মহাবিশ্ব অসীম কিনা প্রমাণিত নয়। এই ধরণের মাল্টিভার্সও তাই অপ্রমাণিত।

এই জিনিস থাকলেও, বহু বহু দূরের আপনার টুইনের সাথে আপনার কোনদিন দেখা হবে না।

ধরণ ২ঃ

এইবার ধরে নিচ্ছি, মহাবিশ্ব অসীম না, তবে আমাদের মহাবিশ্ব একমাত্র মহাবিশ্ব না।

এটা অনেকভাবে হতে পারে।

এক হচ্ছে ইটারনাল ইনফ্লেশান তত্ত্ব।

ধারণা করা হয় (কেন হয় আরেকদিন বলব), বিগ ব্যাঙের পরপর খুব অল্প কিছু সময় ধরে মহাবিশ্ব খুবই দ্রুত গতিতে প্রসারিত হয়েছিলো। আলোর চেয়েও বেশি বেগে। এটাকে বলে ইনফ্লেশান।

কিছুক্ষণ পর, ওই ইনফ্লেশানরত মহাবিশ্বের অল্প কিছু জায়গায় ইনফ্লেশান থেমে যায়। সেখান থেকে আসে আমাদের এই দৃশ্যমান মহাবিশ্ব। মহাবিশ্ব এখনো বড় হচ্ছে, তবে ইনফ্লেশানের মতো মারাত্মক বেগে না।

বাকি অংশে ইনফ্লেশান চলছে। সেটা মারাত্মক বেগে বড় হচ্ছে। সেখান থেকে মাঝে মাঝে কিছু অংশ ইনফ্লেশান থেকে বেড়িয়ে আসে, জন্ম হয় শিশু মহাবিশ্বের।

এই শিশু মহাবিশ্বগুলোর কেউ কেউ অনেকদিন বেঁচে থাকে। তারা বড় হয়। তাদের গর্ভে নক্ষত্রের জন্ম হয়।

সেই নক্ষত্রের চারপাশে কখনও হয়তো কোন অনুজ্জ্বল নীল সবুজ গ্রহতে প্রাণেরও আবির্ভাব ঘটে।


ইনফ্লেশান যদি চিরদিন চলতে থাকে, তাহলে, আরও একদিন, অন্য কোন মহাবিশ্বে, হুবহু আপনার মতো একজনের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ইনফ্লেশান, ইটারনাল ইনফ্লেশান কোনটাই প্রমাণিত না। তবে  ইনফ্লেশান সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক, পরে কোন একদিন বলব।

আগামী পর্বে আমরা আরও দুই ধরণের মাল্টিভার্সের গল্প শুনবো, তারপর কোয়ান্টাম মাল্টিভার্সে ব্যাক করবো।

Leave a Reply