কোয়ান্টাম ০: ভূমিকা



কোয়ান্টাম – ০
ভূমিকা

১।
সাত কাণ্ড রামায়ণ পড়ে যদি কেউ বলে সীতা কার বাপ, কেমন লাগে?

কোয়ান্টাম আট পর্ব লিখে ফেলেছি, আট নাম্বার পর্বে এসে একজন কমেন্ট করল, ভাই কোয়ান্টাম খুব ভাল জিনিস, আমি নিজেও অনেকদিন থেকে কোয়ান্টামে ভর্তি হতে চাচ্ছি, টাইম পাচ্ছি না। পরীক্ষা শেষ হলেই ভর্তি হয়ে যাব।
আমি তব্দা খেয়ে গেলাম। অবশ্য আমি ফাস্ট থিঙ্কার, বুঝতে বেশিক্ষণ লাগে নি কি কাহিনী।
রকমারি.কমে যান।
ইংরেজিতে quantum লিখে সার্চ দেন।
কি আসে?

দুই নাম্বারেঃ ভাঙো দুর্দশার চক্র!
তিন নাম্বারেঃ সাফল্যের চাবিকাঠি! মহাজাতক!! কোয়ান্টাম মেথড!!!
ছয় নাম্বারেঃ আলোকিত জীবনের হাজার সূত্র! কোয়ান্টাম কণিকা!!!
সাত আর আট নাম্বারেঃ সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন! এইটার আবার দুইটা ভার্শন। একটা ভাল প্রিন্ট, আরেকটা সেবার পচা কাগজে প্রিন্ট!

বুঝতে পারছেন কিছু?
সারা পৃথিবী কোয়ান্টাম বলতে বুঝে ছোট ছোট কণাদের কেচ্ছা কাহিনী।
বাঙ্গালি বুঝে কোয়ান্টাম মানে ধ্যান।
মেডিটেশন।
শুধু কি ধ্যান? দুর্দশার চক্র ভাঙতে পারে কোয়ান্টাম। কোয়ান্টাম হলো জাতক, মহাজাতক!

ভাবছি কোয়ান্টামের মতো বিজ্ঞানের অন্যান্য ফিল্ডগুলো দখল করে নিলে কি হবেঃ

-ম্যাক্সওয়েল কবিতা লেখার সূত্র। ম্যাক্সওয়েলিয় পদ্ধতিতে গীতাঞ্জলী-২ লিখুন, নোবেল প্রাইজ জিতুন
-দি নিউটন ছাগল পালন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রত্যেক ছাগলের একটি সমান ও বিপরীত পাগল আছে।
-অয়লার ফর্মুলা। অল ইজ অয়েল।

যাকগে এবার কাজের কথায় আসি। কোয়ান্টাম সিরিজ ধ্যানের গল্প নয়, উন্নত জীবনের গল্প নয়। এটা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের গল্প। আপনি আমি রাস্তার ধূলিকণা আকাশের নক্ষত্র সবগুলোই অতি ক্ষুদ্র কিছু কণা দিয়ে তৈরি। এদের ইংরেজি নাম পার্টিকেল। ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন এগুলো সব ছোট ছোট পার্টিকেল। কোয়ান্টাম মেকানিক্স এই কণাগুলোর গল্প বলে। আমরা ভুতের গল্প শুনেছি, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের গল্প শুনেছি। এই কণাগুলোর গল্প যেকোনো ভুতের গল্প থেকে বেশি রহস্যময়। বিজ্ঞান এই চরম ভূতুরে ব্যাপারগুলো শুধু মেনেই নেয় না, এদেরকে ব্যাবহারও করে। আপনার হাতের মোবাইল, পাশের ল্যাপটপ, প্রতিটা ইলেক্ট্রনিক জিনিস এই কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দান।

২।
কেন এই সিরিজ?
নিচের ছবিটা দেখছেন? হিজিবিজি কয়েকটা লেখা, ছাতার মতো কিছু চিহ্ন?
ওইটা শ্রোডিঙ্গার ইকুয়েশন। আর তার পাশেরটা হলো ডিরাক ইকুয়েশন।


ওই আঁকিবুঁকি লেখাগুলোর ভেতর লুকিয়ে আছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ রহসগুলো।
এই পিচ্চি পিচ্চি কণাগুলো নাকি শুন্য থেকে তৈরি হতে পারে।
শূন্যে মিলিয়ে যেতে পারে।
কয়েক আলোকবর্ষ দুরে তার ভাইয়ের সাথে শুন্য সেকেন্ডে যোগাযোগ করতে পারে।
একই সাথে দুই জায়গায় থাকতে পারে।
এক জায়গা থেকে গায়েব হয়ে অন্য জায়গায় যেতে পারে।

কোয়ান্টাম থেকে জন্ম হয়েছে মাল্টিভার্সের ধারনা। কেউ কেউ বলে , প্রত্যেকবার যখন কোন একটা কণাকে দেখার চেষ্টা করা হয় অনেকগুলো নতুন ইউনিভার্সের জন্ম হয়।
কোয়ান্টাম থেকে জন্ম হয়েছে অতীতকে বদলে দেওয়ার ধারনা। কণাগুলো নাকি ভবিষ্যৎ থেকে মেসেজ নিয়ে অতীতকে পাল্টানোর চেষ্টা করে।

এই সিরিজ কোয়ান্টাম ফিজিক্সের। আমরা দেখে আসবো ওই বিদঘুটে সমীকরণগুলো আসলে কি বলে। কি আছে ওই হিজিবিজি লেখায়।

রাদারফোর্ড এসে গেছেন, বোর আসি আসি করছেন, পর্দার ওপাশে ছটফট করছেন হাইজেনবার্গ, পলি, ডি ব্রগলি আর ডিরাক। আর একহাতে বিড়াল আরেক হাতে সায়ানাইডের বোতল নিয়ে মিটিমিট হাসছেন নিষ্ঠুর বিড়াল মানব আরভিন শ্রোডিঙ্গার।

তো, হয়ে যাক তাহলে?

7 thoughts on “কোয়ান্টাম ০: ভূমিকা”

Leave a Reply