৯. ইনট্রিনসিক বক্রতা – ১


বহুদিন ধরে লিখছি না, আজ বেশি এনার্জিও নাই, এটা মিনি পর্ব হিসাবেই থাক। আগামীতে ক্লিয়ার করবো।আশা করি যারা ৬, ৭ পড়েছো বুঝবা।

১.

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জসিম দেখলো, আশেপাশে সব বড় হয়ে গেছে। রাস্তা বড়। মানুষজন বড়। গাড়িঘোড়া বড়। আকাশে সূর্য বড়। সে নিজেও বড় হয়ে গেছে। সে নিজেও বড় হয়ে গেছে।

মহাবিশ্বের প্রতিটা জিনিস দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সবকিছুর বেগও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আলোর বেগ সহ।

আগে দুইটা বিন্দুর মধ্যে দূরত্বের সমীকরণ ছিল

ds^2 = dx^2  + dy^2 + dz^2

এখন হলো:

ds^2 =  4dx^2  + 4dy^2 + 4dz^2

জসীম অবাক হলো না। 

আক্কাস আলী, বক্কর ভাই কেউ অবাক হলো না।

এই ঘটনা যে ঘটেছে কেউ বুঝতেও পারলো না!!

কেন বলো তো?

২.

একটা মহাবিশ্ব বড় হচ্ছে। সেখানে প্রতিটা জিনিসের সাইজ প্রতিদিন ডাবল হচ্ছে। যে কোন দুইটা জিনিসের দূরত্ব ডাবল হচ্ছে। প্রতিটা জিনিস একই হারে বড় হচ্ছে।

এই মহাবিশ্বের অধিবাসীদের বোঝার কোন উপায় নেই স্পেস বড় হচ্ছে। কেন বলো তো?

৩.

আরেকদিন জসীম ঘুম থেকে উঠে দেখলো, যে রাস্তা দিয়ে সে প্রতিদিন কাজে যায় সেটা বিশাল লম্বা হয়ে গেছে। রাস্তায় নামলেই সেটা বোঝা যায়। স্কেল নিয়ে মাপলে দেখা যাবে এক কিলো রাস্তা আসলে দুই কিলো হয়ে গেছে। কিন্তু ওই রাস্তার পাশেই কিন্তু মাটির রাস্তাটা আগের মতোই রয়ে গেছে।

এইবার জসিম ক্লিয়ারলি বুঝবে, কিছু একটা সমস্যা।

তার দুইটা সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ক. ওই রাস্তায় যেই যায় সেই ছোট হয়ে যায়। স্কেল ছোট হয়। গাড়িও ছোট হয়।

খ. ওই রাস্তা নিজেই বড় হয়ে গেছে। কিভাবে বড় হলো? আমরা জানি কোন একটা পাহাড়ের উপর দিয়ে গেলে রাস্তা বেঁকে যায়। ওই রাস্তাও হয়তো কোনদিকে বেঁকেছে। হয়তো অন্য কোন মাত্রায়।

দুইটা হিসাবই কারেক্ট। কোনটা ঠিক বোঝার কোন উপায় নাই। দুইটা ধরে অঙ্ক করলেই কারেক্ট রেজাল্ট আসবে।

এই যে শুধু রাস্তা বেঁকে গেছে বা বড় হয়েছে, আশেপাশে অন্য কোন জিনিস বাঁকে নি বা বড় হয় নি, এটা জসিম বুঝতে পারবে। সবকিছু বড় হলে বুঝতে পারতো না। এ ধরণের বক্রতাকে বলে ইন্ট্রিনসিক বক্রতা। কেন বড় হওয়াকে বক্রতা বলছি একটু চিন্তা করো, বুঝে যাবা।

৪.

একটা মহাবিশ্ব বড় হচ্ছে, কিন্তু সমভাবে না। পরমাণু বড় হচ্ছে না। পৃথিবী বড় হচ্ছে না। সৌরজগতও বড় হচ্ছে না। গ্যালাক্সিও না।

তবে বহু দূরের গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলোর ভেতর দূরত্ব বাড়ছে।

আরেকটা মহাবিশ্ব একই সমান আছে। বড় হচ্ছে না। গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের দূরত্ব একই সমান থাকছে। কিন্তু দিনদিন তার গ্রহ নক্ষত্রগুলো, অণু পরমাণুগুলো ছোট হয়ে যাচ্ছে! আলোর বেগও ধীরে ধীরে কমছে।

একটু ভাবো তো, দুইটাকে আলাদা করে চেনার উপায় কি?

Nayeem Hossain Faruque

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

১০. দূরত্বের সূত্র

Tue May 26 , 2020
Post Views: 785 Facebook0Tweet0Pin0 ৭ নাম্বার পর্বে বলেছিলাম চার মাত্রিক স্থান কালের ভেতর দিয়ে দুই বিন্দুর সত্যিকারের দূরত্ব হচ্ছে ds^2 = -dt^2 + dx^2 + dy^2 + dz^2. আজকে তার প্রমাণ দেখে আসি। এই প্রমাণটা বহু জায়গায় পাবা, আমি নিয়েছি হার্টেলের গ্র‍্যাভিটি বই থেকে। ১. ধরো দুইটা আয়না L দূরত্বে […]

Subscribe