নিওজিন -১




১.

একটা মানুষের বাইট ফোর্স ৭২০ নিউটন। মুরগির হাড় গোর চাবাতে পারে সহজেই। গরুর মাথার ঘুলি কামড়ে ভাংতে তার খবর হয়ে যাবে।

একটা বাঘের বাইট ফোর্স সাড়ে চার হাজার নিউটন। সে মানুষের মাথাকে ডিমের খোসার মতো গুঁড়িয়ে দিতে পারে। 

বর্তমান যুগের সবচেয়ে পাওয়ারফুল চোয়াল লোনাপানির কুমিরের। ১৬ হাজার নিউটন। মারাত্মক! 

ডাইনোসর টি রেক্সের বাইট ফোর্স কত? ৪০ হাজার নিউটন। এই রেকর্ড মাটির প্রাণীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। টি রেক্সকে বেঁচে থাকতে হয় ৩০ ফুট লম্বা বর্মওয়ালা ডাইনোসরদের খেয়ে খেয়ে, ওই বাইট ফোর্স তার দরকার আছে। টি রেক্সের ওই চোয়ালটার নাম দেওয়া হয়েছে বোন ক্রাশার।

সবচেয়ে বেশি বাইট ফোর্স তাহলে কার? অন্য কোন দানবের? তিমির?

প্রাগৈতিহাসিক মন্সটার শার্ক কারকারোডন মেগালোডনের বাইট ফোর্স ধারণা করা হয় সর্বোচ্চ এক লাখ আশি হাজার নিউটন। কিছুদিন আগে মেগ নামের একটা মুভি বের হয়েছিল, সেখানে মেগালোডন নিয়ে অনেক ভুল ভাল তথ্য ছিল। কিন্তু একটা তথ্য ঠিক, এই ভয়াবহ দানব আসলেই কামড়ে একটা জাহাজকে দুই টুকরা করার সামর্থ্য রাখতো।

https://www.sciencemag.org/news/2018/08/could-meg-really-bite-ship-half-we-took-paleobiologist-new-movie-find-out#

আজ থেকে দুই কোটি বছর আগে, দানব হাঙরের চোয়ালের নিচে টগবগ করে ফুটতে থাকা রক্তলাল সমুদ্রের নিওজিন যুগে আপনাকে স্বাগতম!


২.

হাঙর নামের প্রাণীটা পৃথিবীতে আসে ৪২ কোটি বছর আগে, সেই ডেভোনিয়ান যুগে। তারপর দিনের পর দিন সে বিবর্তিত হয়েছে, আরও বুদ্ধিমান হয়েছে, শক্তিশালী হয়েছে, বড় হয়েছে। ৪০ কোটি বছরের বিবর্তন এদেরকে পরিনত করেছে প্রাণীজগতের সবচেয়ে দক্ষ খুনীদের একজন হিসাবে।

মেগালোডন শব্দটার মানে হচ্ছে বড় দাঁত। মেগালোডনের মুখের ভেতর পাঁচ সাড়ি দাঁত ছিল, সেগুলোর সাইজ ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারতো। এই পাঁচটা সাড়ি মিলে মেগালোডনের দাঁত ছিল ২৭৬ টা। একটা দাঁত কোন কারনে নষ্ট হয়ে গেলে দুই তিনদিনের ভেতরই নতুন দাঁত গজাতো। আস্ত ফসিল তার খুব রেয়ার, এমনকি ৭ ইঞ্চি দাঁতও মারাত্মক রেয়ার, একেকটার দাম পড়তে পারে ৫০ হাজার পাউন্ডের মত। কিন্তু ছোট ছোট দাঁতের ভাঙ্গা ফসিল বেশ কমন, amazon.com এ অল্প দামেই বিক্রি হয়। কিছুদিন আগে স্পাইনোসরাসের দাঁত কিনেছি একটা, মেগালোডনের দাঁতও সংগ্রহে রাখার ইচ্ছা আছে অনেক।

https://www.fossilera.com/pages/megalodon

মুখের ভেতর সাড়ি সাড়ি বড় বড় দাঁত নিয়ে মেগালোডনের ২০ মিটার (৬৬ ফুট) লম্বা শরীরটা অস্বাভাবিক শক্তি রাখত। সেই সাথে ছিল তার তীব্র ইলেকট্রিকাল সেন্স। ঘন কালো অন্ধকারেও শিকারীর মাসলের সামানয় নড়াচড়া সে ডিটেক্ট করতে পারতো। ছোট ছোট তিমি থেকে শুরু করে কাছিম, সি লায়ন, সি কাউ ছিল তার শিকারের লিস্টে। সাড়া পৃথিবীতে উষ্ণ, আলোকিত সমুদ্রে শিকারের সন্ধানে চষে বেড়াতো এরা।

আজ থেকে ২৬-২৮ লাখ বছর আগে মেগালোডন পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিলুপ্তির কারণ হিসাবে ধারণা করা হয় নতুন আসা বড় বড় তিমি আর গ্রেট হোয়াইট শার্কদের সারহে কম্পিটিশনে টিকতে না পারা। গভীর সমুদ্রে এরা কখনোই থাকে নি, ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরে এদেরকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই কোন। এই জাতীয় শার্ক গভীর সমুদ্রের অস্বাভাবিক চাপ সহ্য করতে পারতো, এমন কোন প্রমাণ নেই। মেগালোডন এখনও দুই চারটা বেঁচে আছে, এ সম্ভাবনায় বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন না। 

http://www.labnews.co.uk/article/2026056/cause_of_megalodons_extinction_revealed

মেগের মুখের হা ছিল ছিল প্রায় একটা পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমান। বর্তমানে জীবিত অতি হিংস্র গ্রেট হোয়াইট শার্কের খুব কাছের আত্মীয় ছিল এরা। ছবিতে গ্রেট হোয়াইট শার্কের সাথে মেগের আকার আকৃতি তুলনা করা হয়েছে।


৩.

আগামী পর্বে নিওজিনের বাকি প্রাণীদের দেখে আমরা ঢুকে যাবো কোয়ার্টার্নারী যুগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *