মিনি বিজ্ঞান ৭: অ্যাড্রেনালিন

মিনি বিজ্ঞান ৭ 

অ্যাড্রেনালিন 

কয়েক দিন ধরে অলসতা পেয়ে বসেছে, রাইটার্স ব্লকে ধরেছে। আজকে জোড় করেই তাই লিখতে বসলাম। 

ভয়ঙ্কর কোন ঘটনা, অথবা চরম উত্তেজনাকর কোন কিছুর মুখোমুখি হলে কিডনির উপরের অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ড থেকে বের হয়ে আসে অ্যাড্রেনালিন হরমোন। এই জিনিস আপনাকে বিপদের মুখে টিকে থাকার জন্য যা যা সাহায্য দরকার, করে। 

আপনি বিপদের মুখোমুখি। আপনাকে খুব দ্রুত চিন্তা করতে হবে। অ্যাড্রেনালিন আপনার ব্রেইনে রক্তের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ব্রেইন হাইপার অ্যাক্টিভ মুডে চলে। এই সময় আপনার চিন্তা শক্তি দ্রুত হয়। মনে রাখার ক্ষমতাও বাড়ে। 

আপনাকে এখন মৃত্যুর চোখে চোখ রাখতে হবে। খুব ভালো করে তাকাতে হবে চারপাশে। অ্যাড্রেনালিন চোখের পিউপিল বড় করে দিবে। আপনি সজাগ থাকবেন। 

আপনাকে দৌড়াতে হতে পারে। চিন্তা করতে হতে পারে। রক্ত দরকার মস্তিষ্কে আর পেশিতে। চামড়ায় আপাতত রক্ত না পেলেও চলে। অ্যাড্রেনালিন চামড়া থেকে রক্ত সরিয়ে প্রয়োজনীয় অঙ্গে দিবে। আপনার চামড়া সাদা হয়ে যাবে। 

দ্রুত রক্ত পাম্প করতে হবে। অ্যাড্রেনালিন আপনার হার্টকে দ্রুত চালাবে। হৃদপিণ্ড বলবে, ধুক ধুক, ধুক ধুক। রক্তে দরকার হবে অক্সিজেন। আপনার ফুসফুস দ্রুত ওঠানামা করবে। আপনি বারবার নিঃশ্বাস নেবেন। 

এতোসব করতে হলে শক্তি দরকার। অ্যাড্রেনালিন শরীরের মেটাবোলিজম বাড়িয়ে দেবে। দ্রুত রক্তে গ্লুকোজ ছড়াবে। লিভার তার সঞ্চয় ভেঙ্গে গ্লুকোজ ছাড়বে। দরকার হলে মেদ ভেঙ্গে গ্লুকোজ হবে। কোষে কোষে বার্ন হবে গ্লুকোজ, তৈরি হবে শক্তি। বাঁচতে হলে শক্তি লাগে। 

এই হাইপারআক্টিভ মুড শরীর বেশিক্ষণ টানতে পারবে না। একটু পরেই অ্যাড্রেনালিনের ইফেক্ট কমে যাবে, শরীরও নেতিয়ে পড়বে। কিন্তু অল্প কিছুক্ষণের ওই অ্যাড্রেনালিন রাশ হয়তো আপনাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবে। সে সময় আপনি এমন কিছু করতে পারেন, স্বাভাবিক অবস্থায় যা কল্পনাও করতে পারবেন না। সিংহের মুখে পড়ে যে লোকটা গাছ বাইতে পারে না সে তরতর করে কাঁটাগাছ বেয়ে উঠে গেছে এই গল্প আমি ৎসাবোর মানুষখেকোর বইতে পড়েছি 🙂  

Nayeem Hossain Faruque

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

মিনি বিজ্ঞান ৮: মোর্স কোড

Thu Oct 17 , 2019
Post Views: 962 Facebook0Tweet0Pin0 মিনি বিজ্ঞান ৮  মোর্স কোড  শুধুমাত্র ডট আর ড্যাশ ব্যবহার করে ইংরেজি অক্ষর আর সংখ্যাগুলোকে প্রকাশ করার পদ্ধতি হচ্ছে মোর্স কোড। ডট বলতে ছোট কিছু, ড্যাশ বলতে বড় কিছু বুঝায়। যেমন আস্তে টোকা মানে ডট, লম্বা শব্দ মানে ড্যাশ। টর্চ লাইট এক মুহূর্ত জালানো মানে ডট, […]

Subscribe