টিনি মিনিদের জেনারেল রিলেটিভিটি ১

নিউটের আজব ব্রিফকেস 

#TMGR 

এটা পৃথিবীর সবচেয়ে আজব গল্প। 

এখানে স্পেস টাইম চাদরের মতো বেঁকে যায়। 

ব্ল্যাক হোলের অতল গহ্বরে ঠায় দাঁড়িয়ে পরে সময়। 

বহু দূরের দুই গ্যালাক্সি নাকি জুরে দেওয়া যায় স্পেস টাইম বাকিয়ে। 

এটা বিগ ব্যাঙের গল্প। 

সিঙ্গুলারিটির রগরগে কাহিনী, যেখানে ভেঙ্গে পরে পদার্থবিজ্ঞানের সব নিয়ম কানুন। 

এই সিরিজ কতো লম্বা হবে জানি না। এখনও কোন প্ল্যান নেই। নিজেও পড়ছি। 

শুধু জানি, 

এই গল্পটা বলার জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। 

আপনাদের গল্পটা বলার জন্য মাথা ভর্তি ঝাঁকড়া চুল নিয়ে হাজির হয়ে গেছেন আইনস্টাইন। তাঁর পেছনে রগরগে সমীকরণ ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে চকের আওয়াজ তুলছেন  গণিতবিদ গস, রিম্যান, ক্রিস্টোফেল, হিল্বার্ট আর রিচি। আর লাস্ট বেঞ্চে বসে বেঘোরে ঘুমাচ্ছেন মহান ছাত্র বক্কর ভাই। 

দেরী না করে ঢুকে পড়ি আইনস্টাইনের আজব দুনিয়ায়! 

১। 

ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস দেখেছেন কে কে? ওই যে হ্যারি পটারের সিকোয়েল, ম্যাজিজ্যুওলজিস্ট নিউট স্ক্যামান্ডারের গল্প? 

নিউটের আছে আজব একটা ব্রিফকেস। বাইরে থেকে খুব ছোট, ভেতরে আছে আস্ত একটা চিড়িয়াখানা। চিরিয়াখানায় আছে বিশাল বিশাল ম্যাজিকের সব জন্তু জানোয়ার। আছে গ্র্যাফোর্ন নামের রগচটা গণ্ডার, বিষ নিশ্বাস ছড়ানো সিংহ নুন্ডু, ভোঁদড়ের মতো চেহারার নুন্ডু, সুবিশাল রাজকীয় পাখি থান্ডারবার্ড। ব্রিফকেসের ডালা খুললে বিরাট বড় একটা জগত বের হয়, নিউট নিজে আস্ত ঢুকে যেতে পারে সেখানে। 

ওই ব্রিফকেসটা সম্ভব, যদি স্পেস বেঁকে থাকে ওখানে। 

২। 

বক্কর ভাইয়ের মরার পরের কাহিনী। 

তিনি জীবনে অনেক পাপ করেছেন। এখন তাঁকে ছেড়ে দিয়ে আসা হয়েছে একটা রাস্তায়। 

রাস্তাটা পার করলেই স্বর্গ। সামনে দেখাই যায়। পাঁচ মিনিটও লাগবে না। 

বক্কর ভাই হাসিমুখে রওনা দিলেন। 

ও মা, রাস্তা দেখি ফুরায় না। রাস্তার বাইরে থেকে যেটাকে মনে হয়েছিলো পাঁচ মিনিটের দূরত্ব, রাস্তা দিয়ে গেলে সেটা হয়ে গেছে কয়েক বছরের পথ। 

বাইরের লোকজন দেখবে, বক্কর ভাই কেমন জানি ছোট হয়ে গেছে। অতি অতি ধীরে চলছে। 

বক্কর ভাই অবাক হয়ে দেখছেন, তাঁর পাশের রাস্তাটা দিয়ে আক্কাস আলী ঝড়ের বেগে স্বর্গে পৌঁছে গেল! 

কিভাবে সম্ভব এটা? 

ধরেন পাশাপাশি দুইটা রাস্তা আছে। 

ডানের রাস্তা দিয়ে গেলে পয়েন্ট A আর পয়েন্ট B এর দূরত্ব হয় 500 মিটার। 

একি জায়গার দূরত্ব পয়েন্ট বামের রাস্তা দিয়ে গেলে হয় ৫ হাজার কিলোমিটার। 

আসলেই ৫ হাজার কিলোমিটার। 

এটা সম্ভব কারণ ওই রাস্তা দিয়ে স্কেল নিয়ে গেলে সেটা বাইরের জগতের সাপেক্ষে ছোট হয়ে যাবে। ঘড়ি নিয়ে গেলে সেটা সময় ধীরে দেখাবে। 

একই ঘটনা ঘটতো যদি রাস্তার উপর একটা গভীর গুহা অথবা উঁচু পাহাড় থাকতো। সেই পাহাড় বক্কর ভাইয়ের ৫ মিনিটের রাস্তাকে বাড়িয়ে ৫ বছরের রাস্তা করে দিতো। 

খেয়াল করেন, এই কারণে জেনারেল রিলেটিভিটি এই ঘটনাকে তুলনা করে রাস্তার উপর স্পেস বেঁকে থাকার সাথে। 

স্পেস কোনদিকে বেঁকেছে? উপরে নাকি নিচে? 

আবারও বুঝেন, এই বাঁকা সেই বাঁকা নয়। 

বাকলে যা হতো, সেই একই কাহিনী এখানে হচ্ছে। 

আমি যদি রাস্তার ছবি আঁকি, দেখাবো রাস্তায় গভীর একটা গর্ত আছে। গভীর গর্তে ডুব দিতে বক্কর ভাইয়ের যেমন অনেক সময় লাগবে, এই রাস্তায়ও তাই। 

তার মানে এই না যে, সত্যি সত্যি একটা গর্ত আছে। 

এই বাঁকার নাম স্পেস টাইমের বক্রতা। 

রাস্তার মাঝে যদি ব্ল্যাক হোল থাকে, তাহলে বাইরের দর্শক দেখবে বক্কর ভাই ধীরে চলতে চলতে একসময় থেমে গেলেন। ঠিক যেন কোন তলাবিহীন গভীর গর্তে তিনি ঝাঁপ দিয়েছেন, সেখান থেকে কোনদিন উঠে আসতে পারবেন না। 

এই ৫ কিলোমিটার লম্বা রাস্তারা তখন অসীম পরিমাণ লম্বা হয়ে গেছে। 

জেনারেল রিলেটিভিটির ভাষায়, এই পথের বক্রতা অসীম! 

৩। 

আক্কাস আলীর পথ পাড়ি দিতে লেগেছে ৫ সেকেন্ড। 

কতো? 

৫ সেকেন্ড। 

আক্কাস আলী ৫ মিনিটের পথ ৫ সেকেন্ডে গেছে। 

তাঁর জন্য রাস্তাটা ছোট হয়ে গেছে। ৫০০ মিটার আর নেই। 8.3 মিটার হয়ে গেছে। 

জেনারেল রিলেটিভিটির ভাষায়, এই পথ উলটা বেঁকেছে। 

এখানে যেন বাইরের লোকজন পাহাড়ে হাঁটছে। 

বাইরের লোকজন পাহাড় চূড়ায় উঠে তারপর নেমে অনেক ধীরে ধীরে A থেকে B তে যায়। 

আক্কাস আলীর সেই ঝামেলা নাই। 

তার জন্য পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে সুরঙ্গ খোঁড়া হয়েছে। ওই সুরঙ্গ দিয়ে সে ৫ মিনিটের পথ ৫ সেকেন্ডে পার হচ্ছে। 

এই পথের বক্রতা উলটা। 

এই পথটার নাম হচ্ছে ওয়ার্মহোল। 

৪। 

গল্পটা অনেক বড়। 

সামনে আসছে গণিতের বাঘা বাঘা সব দৈত্য দানো। কনসেপ্ট একবারে ক্লিয়ার রাখতে হবে। 

টিনি মিনিদের ক্যালকুলাস পড়ে আসতে হবে। 

ভেক্টর নিয়েও লিখব। 

ভেক্টর আর ক্যালকুলাস না বুঝলে বক্কর ভাইয়ের মতো ব্ল্যাক হোলে ডুবে মরতে হবে! 

আজকে এই পর্যন্তই। 

https://nayeem.science/category/maths/calculus/

Nayeem Hossain Faruque

One thought on “টিনি মিনিদের জেনারেল রিলেটিভিটি ১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

টিনি মিনিদের জেনারেল রিলেটিভিটি ২

Thu Aug 22 , 2019
Post Views: 814 Facebook0Tweet0Pin0 টিনি মিনিদের জেনারেল রিলেটিভিটি ২  এক যে ছিল 2D জগত  (কিছুটা ফ্ল্যাটল্যান্ড অবলম্বনে)  #TMGR  ১।  এক যে ছিল 2D জগত।  সেই জগতে বাস করতো চ্যাপ্টা প্রাণীরা।  একবারে চ্যাপ্টা।  তাদের দৈর্ঘ্য আর প্রস্থ আছে, উচ্চতা নেই বললেই চলে। থাকলেও তাদের ব্রেইন উচ্চতা জিনিসটা বুঝে না, বুঝলেও চিন্তা […]

Subscribe