বিবর্তন বেসিক



এই লেখাটা বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞান কি ভাবে তার উপর। আশা করি যাদের কনসেপ্ট ক্লিয়ার না তাদের আরেক্টু ক্লিয়ার হবে।

২ ৪ কথায় বেসিক:

DNA নামে একটা জিনিষ আছে শরীরের কোষে কোষে, ওইটায় A T C G এই ৪টা অক্ষরে লেখা আছে আপনার হাইট কেমন হবে, কালার কি হবে থেকে শুরু করে হাত কয়টা থাকবে, পা কয়টা থাকবে, চেহারা মানুষের মত হবে নাকি বান্দরের মত হবে, সবকিছু। আপনার  DNA নিয়ে জিন এডিটিং যন্ত্রে এডিট করে যদি হাতের জায়গায় পাখার জিন ঢুকিয়ে দেই, আর লোমের পরিমাণ বাড়িয়ে দেই, তারপর সেই DNA দিয়ে বাচ্চা ফুটানর চেষ্টা করি , সেই বাচ্চা দেখতে শুনতে পাখনাওয়ালা বান্দর টাইপ হবে।

যখন একটা থেকে আরেকটা DNA হয়, তখন DNA তে একটু একটু চেঞ্জ হয়, একে mutation বলে। আপনার শরীরের DNA te চেঞ্জ হয়ে লাভ হবে না, already আপনার হাত গজিয়ে  গেছে, চাইলেও পাখনা গজাতে পারবেন না এখন, পাখনা গজাতে হোলে আপনার sperm/ovum কোষে অথবা zygote এ চেঞ্জ করতে হবে।

মিউটেশন রেগুলার হচ্ছে, সব জায়গায় হচ্ছে, যেই মিউটেশন গুল হাত পা গজানর আগেই হয় সেগুলো বাচ্চার কাজে লাগে।

আসেন চেঞ্জ দেখিঃ
ধরি হাত পা এর জন্য জিন AATTCCGG, পাখনার জন্য জিন AACCTTGG ।
যদি এই sequence এ চেঞ্জ হয়
AATTCCGG > AATCCCGG > AACCCCGG > AACCTTGG
BINGO, পাখনাওয়ালা বাচ্চা পাওয়া গেছে :-p

ওয়েট, ব্যাপারটা যদি এতই সহজ হয় পাখনাওয়ালা বাচ্চা হচ্ছে না কেন? আসেন কাজের কথায় আসি।

প্রকৃতিতে  মিউটেশন জিনিষটা পুরাপুরি র‍্যান্ডম। চেঞ্জ করে কি হবে তার উপর এমনিতে  কারো হাত নেই। তবে জিন এডিট করে ল্যাবরেটরিতে মিউটেশন ঘটানো যায়। একে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। আলো দেওয়া তামাক গাছ, অসংখ্য ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে প্রতি বছর তৈরি হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হোল, জিন এডিট না করে, র‍্যান্ডম চেঞ্জ হয়ে প্রকৃতিতে আলো দেওয়া তামাক গাছ হওয়া সম্ভব কিনা?

দুইটা কেস স্টাডিতে আসিঃ

1. ধনে ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা। এই ধান জিনিষটা পুরাপুরি মানুষের হাতে তৈরি, আগে এই জিনিষ ছিলই না । সারাদিন কাজ করে এসে মানুষ বসে বসে ঘাসের চিকন চিকন দানা চিবাতো :-(. তো ব্যাপার হচ্ছে কি , মানুষ বরাবরি একটু ক্লেভার, যাকে বলে চালাক আরকি। মানুষ দেখল কি, মাঝে মাঝে কিছু ধান হয় যেগুলোর দানা অন্য ধানের চেয়ে একটু বেশি মোটা, সে করল কি, এই মোটাসোটা ধানগুলোর মধ্যে ব্রিডিং করাল।  হাজার হাজার বছর ধরে ধান একটু একটু করে মোটা হল, টেস্টি হল, তারপর অবশেষে আসল নাজিরাবাযারের হাজির বিরিয়ানি (খুব একটা মজা না, তেল অনেক )। এই প্রক্রিয়ার নাম হিউম্যান আসিস্টেড ইভল্যুশন। এর সিলেকশনের ক্রাইটেরিয়া : মোটা টেস্টি ধান।

2. ১৫ কোটি বছর আগের কথা, বড় বড় ডাইনোসরদের জালায়
ছোট ছোট অনেক ডাইনোসর টিকতে পারছিল না, খুব দুঃখে কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। তো হল কি, একদিন এদের কোন একটা বাচ্চার হাতটা একটু চওড়া হল। ব্যাপারটা পুরাপুরি র‍্যান্ডম, হাত পা  ছাড়া বাচ্চাও মাঝে মাঝে হয়, এরা টিকতে পারে না, শিকার হয়ে যায়, তাই এদের DNA পরের জেনারেশনে আস্তে পারে না। এই প্রবলেম আমাদের চওড়া হাত ওয়ালা বাচ্চাটার নাই । সে টিকে গেল , মেবি ছোটবেলায় ক্লাসমেটদের একটু টিটকারি সহ্য করতে হয়েছে , কিন্তু বড়ো হয়ে ভাল gf ও পেয়ে গেল ।  এর জিন নেক্সট জেনারেশনে পৌঁচে গেল । ডট ডট ডট, ডট ডট ডট , লাখ লাখ বছর পরের কথা: পাখনা ওয়ালা ডাইনোসর হাল আমলের ক্রেইয। পাখা না থাকলে কেউ দাম দেয় না, ভাল গফ মিলে না, অনেক কষ্ট।
জন্ম হল ARCHEOPTERIX এর। এই প্রক্রিয়ায় নাম: natural selection. ক্রাইটেরিয়া : বাচ্চা না দেওয়া পর্যন্ত বাচতে হবে : survive until you breed ।
বুঝা গেল কিছু?

faq

1: এতকিছুর প্রমাণ কি?
উঃ আরেকদিন লিখবো, লিঙ্ক দিচ্ছি পড়ে দেখতে পারেন।
https://www.khanacademy.org/science/biology/her/evolution-and-natural-selection/a/lines-of-evidence-for-evolution

2. মানুষ বান্দর থেকে এসেছে ?
উঃ না ভাই, মানুষ  আর বান্দরের কমন পূর্বপুরুষ ছিল। একজাতের বনমানুষ থেকে এসেছে বলা যায়।

3. এখন বিবর্তন হয় না কেন ?
উঃ কে বলেছে হয় না? বিবর্তন, পুরপুরি র‍্যান্ডম হওয়ায় খুব স্লো, এখনকার মানুষের সাথে ১ লাখ বছর আগের মানুষ কম্পেয়ার করেন , টের পাবেন চেঞ্জ হচ্ছে কিনা ।

4. বনমানুষ থেকে আর মানুষ হয় না কেন ?
উঃ মানুষ হতে হবে কে বলেছে ? সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে টিকতে হবে, ব্যাস। নিয়মিত রান্ডম চেঞ্জ হচ্ছে , যে বনমানুষ থেকে মানুষ হয়েছে সে নিজেও এখন বিলুপ্ত, একই চেঞ্জ আরেকবার হওয়ার চান্স ও নাই ।
কেন চান্স  নাই বুঝিয়ে বলি,।  ধরেন, অনেক লম্বা একটা কোড আছে মানুষের, এক  কোটি লেটারের। ধরলাম সব মানুষ khub কাছাকাছি, 4^10000000 পারমিউটেশনের খুব অল্প কিছু পারমিউটেশনে মানুষ হয়। যে বনমানুষ থেকে চেঞ্জ হয়ে মানুষ হয়েছে সে আর নাই, একি চেঞ্জ হয়ে আবার মানুষ তৈরি হওয়া খুবই খুবই অসম্ভব । আবার বুঝেন , আমি কিন্তু বলি নাই আর বুদ্ধিমান প্রাণী হবে না, মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান প্রাণী হতে পারে, কিন্তু মানুষ একবার হারিয়ে গেলে প্রাক্রিতিকভাবে আর ফিরে আসবে না (৭ বিলিয়ন মানুষ  আছে, এত চিন্তা না করলেও হবে , বাঘ নিয়ে চিন্তা করেন )।

5. প্রথম  মানুষ কে ছিল?
উঃ নিচের ছবিটা দেখেন। ঠিক কোন পয়েন্টে আপনি “প্রথম কালো” বলবেন?  For more info, read 8.

6. গলা লম্বা করতে থাকলে কি কয়েক জেনারেশন পরে লম্বা গলা হয়ে যাবে?
উঃ না ।  lamark মিউটেশন সম্পর্কে জানত না।

7. এত কমপ্লেক্স জিনিষ তৈরি হয় কিভাবে? মানুষের চক্ষু কর্ণ মস্তিষ্কের complexity জানেন?
উ : চোখের কথায় আসি। অনেক অনেক দিন আগে, কোন একটা এককোষী প্রাণীতে ছিল ছোট্ট একটা লাইট সেন্সর। এই জিনিষটা দিয়ে সে শিকার করত, চলত ফিরত। রঙ বুঝত না, শেপ চিনত না, just আলো অন্ধকারের পার্থক্য বুঝত। তার বাচ্চা হল। বাচ্চা হওয়ার সময় কি হল বলেন তো?
ঠিক ধরেছেন, mutation হল। mutation হয়ে কানা বাচ্চা জন্ম হল 🙁  এই বাচ্চাটা আর বাচ্চা দেওয়ার আগেই মারা পড়ল 🙁 গুড নিউস হল, কানা বাচ্চার জিন নেক্সট জেনারেশনে আস্তে পারল না।
বুঝতে পারতেসেন কিছু? ডট ডট ডট, ডট ডট ডট খারাপ বাচ্চা হয়, মারা পরে। আরেক্টু ভাল চোখের বাচ্চা হয়, টিকে যায়। লেন্স ওয়ালা বাচ্চা? chance কম। ধরলাম ১ লক্ষ জেনারেশনে একটা হয় । হয়ে গেলে পরে? লেন্স ছাড়া ভাইবোন টিকতে পারবে ওর সাথে ? gf মিলবে?
লেন্স আসল, রেটিনায় তৈরি হল কালার সেন্সর, সরল চোখ আসতে আসতে জটিল হোল।
সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া একটাই : SURVIVE UNTIL YOU BREED.

8. নতুন প্রজাতি কখন হয়? হওয়া দেখি না কেন? এখন কেন নতুন প্রজাতি হচ্ছে না?
উঃ  এই অংশটুকু Dawkins এর Magic of Reality বই থেকে নেওয়া। শুরু করিঃ
একটা হাইপথেটিকাল ছবির এলবামের গল্প। এই এলবামে ছবি stack করা থাকে। সবচেয়ে উপরে আপনার ছবি, তার উপরে আপনার বাবার ছবি, তার উপরে তার বাবা কিংবা মায়ের, so on and on. এই এলবামে যেকোনো একটা ছবি তুলে নিন । তার উপরের , নিচের, আগের পরের ছবিগুলো মোটামুটি একি রকমের হবে। মানুষের বাচ্চা মানুষ, বানরের বাচ্চা বানর। থুক্কু বনমানুষের বাচ্চা বনমানুষ। তাহলে বিবর্তন হচ্ছে কোথায়?
ব্যাখ্যা করি : আপনার সাথে আপনার বাবার চেহারার মিল অনেক, 2 জনি মানুষ কোনই সন্দেহ নাই। আরও আগে আসি, আপনার দাদা , তার দাদা  এভাবে যেতে যেতে আপনার ৪০০০ তম পরদাদার ছবিটা বের করেন । ২৫ বছরে এক জেনারেশন হলে ei ভদ্রলোক বাস করতেন এক লক্ষ বছর আগে। এই ভদ্রলোক ও কি মানুষ?
খুলিটা তার একটু মোটা, চোখের ভ্রুগুলো বেশ different, কিন্তু এই ভদ্রলোককে এনে এখনকার মানুষের সাথে বিয়ে দেন, যে বাচ্চা হবে সেই বাচ্চারও বাচ্চা হওয়ার ভাল chance আছে। ইনিও মানুষ।
আরও আগে যাই। আপনার ৫০০০০ তম পরদাদার দেশে। এই লোক , ইয়েতি হতে পারে, বিগফুট হতে পারে কিন্তু আর যাই হোক মানুষ না। এর সাথে আধুনিক মানুষের বিয়ে হলে যে বাচ্চা হবে তার বাচ্চা হবে না । এই লোকের প্রজাতি different. এর নাম homo erectus.

9.  যদি মাছ থেকে অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী এসে থাকে  এখনও মাছ আছে কিভাবে?
উ : এমন কোন শর্ত নাই যে মানুষ বাঁচতে হলে মাছকে মরতে হবে।
Mr ফিশ এর ২টা বাচ্চা ছিল। একটা পা গজায় মাটিতে গেল, আরেকটা বংশের ঐতিহ্য বজায় রেখে পানিতে বাস করতে থাকলো।

আজকে থিওরিটিক্যাল আলোচনা হোল। প্রমাণ নিয়ে আরেকদিন বসব। বিশাল আর্টিকেল হয়ে গেছে।

রেফারেন্সঃ
1. https://evolution.berkeley.edu/evolibrary/search/topics.php?topic_id=13
2.
https://www.nature.com/subjects/evolution

3 thoughts on “বিবর্তন বেসিক”

  • Mr. Fish এর ২টি বাচ্চার মধ্যের যার পা গজালো, সে কি mr. Fish থেকে আলাদা প্রজাতি? মানে সে কি যার পা গজায়নি তার সাথে বংশবিস্তার করতে পারবে?

    • Nayeem Hossain Faruque

      Genetic difference jotodin onek beshi na hochche, se alada projati na.
      Pa gojanotao dhire dhire hobe, ek generation e na.

  • আচ্ছা কোনো প্রজাতির মিউটেশন হয় তো প্রকিতৃতে টিকে থাকার জন্য।তার প্রজাতি প্রকৃতিতে টিকে থাকতে পারছে না তাই মিউটেশন হয়।ধরেন একটা প্রাণী প্রকৃতিতে টিকে থাকতে পারছে না বলে তার বিবর্তন হলো।তাহলে বিবর্তন হাওয়ার আগের প্রাণীটা মানে প্রধান প্রাণীটা তো প্রকৃতিতে টিকে থাকার কোনো প্রশ্নই উঠে না।তাহলে mr. ফিশ এর যে বাচ্চার ২ টা পা গজালো সে প্রকৃতিতে টিকে গেলো।তাহলে mr.ফিশ এখনো প্রকৃতিতে টিকে আছে কেনো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *