সন্তান




সন্তান

হোক না সে ক্যান্সারের মতো মতো, টিউমারের মতো; সে আপনার সন্তান।

আপনার শরীরের পুষ্টি নিয়ে, শক্তি নিয়ে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে সে। আপনার গলার ভেতর যে ছোট্ট পিণ্ডটা জন্মেছে, একদিন সেটা থেকে হবে তার চোখ মুখ। আপনার বুকের কাছে যে ফোলা জিনিসটা হয়েছে, সেটা একদিন হবে তার ডানা।

সে লুকিয়ে আছে আপনারই শরীরের ভেতর। আপনি ছোটবেলা থেকেই তার কথা জানেন। আশেপাশের লোকজনও জানে। সবাই জানে, আপনি একটা ধারক মাত্র, সে হচ্ছে আসল। আপনি কুৎসিত, সে সুন্দর।

সে আপনার সন্তান। তাকে জন্ম দেওয়া আপনার একমাত্র উদ্দেশ্য। আপনি তুচ্ছ, সে মহান।

আপনাকে প্রচুর খেতে হয়। নানান জাতের পুষ্টিকর খাবার। নিজের জন্য না, সন্তানের জন্য। আপনি খাবেন, সে আস্তে আস্তে বড় হবে। আপনার শরীরের ভেতর ছোট ছোট পিণ্ডগুলো আস্তে আস্তে রেডি হবে।

তারপর একদিন, আপনার মধ্যবয়স পার করার পর সে আপনাকে সিগন্যাল দিবে, তার আসার সময় হয়েছে। আপনি যন্ত্রের মত রেডি হবেন। আপনার সাড়া জীবনের সাধনা সত্যি হতে চলেছে।

আপনি আঁতুড়ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করবেন। তার জন্ম সুখকর কোন প্রসেস নয়, আপনার কষ্ট হবে। নিজেকে মমির মত পুরোপুরি বেঁধে ফেলতে হবে। আপনি আপনার আগাগোড়া সুতা দিয়ে ঢেকে ফেলবেন, পেঁচিয়ে ফেলবেন, শেষে নিজেকে শক্ত করে বেঁধে ফেলবেন হুকের সাথে।

আপনার খাওয়ার দিন শেষ। হাঁটাচলার দিন শেষ। এবার সে আপনাকে খাবে।
একটু  করে এনজাইম বের হবে, আপনার হাত, পা আস্তে আস্তে গলে যাবে। আপনার পাকস্থলী, কিডনি কোন কিছুর আর দরকার নেই, আপনার সন্তানের এখন পুষ্টির দরকার। আপনার শরীর গলে তৈরি হবে পুষ্টিকর পদার্থের সুপ, ভেতরের পিণ্ডগুলো সেই সুপ খেয়ে আস্তে আস্তে বড় হবে। একদিনে গলবে না, খুব ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে গলবে। এই প্রক্রিয়ার নাম মেটামর্ফোসিস।

একদিন মমি ফুটা করে সুতা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে আপনার সন্তান – অপূর্ব সুন্দর এক প্রজাপতি।

এই অভিশপ্ত সন্তান বেশিদিন বাঁচবে না। কিছুদিন পরই ডিম দিয়ে মারা যাবে।
ডিম ফুটে জন্ম হবে আপনার মতো আরেকটা হতভাগ্য ক্যাটারপিলারের।

2 thoughts on “সন্তান”

Leave a Reply