প্রথম পর্বঃ আত্মার গল্প





“There are known knowns. Then there are known unknowns. And then, there are unknown unknowns.”   
আমার এক ক্লাসমেট ছিল, মামুন নাম। সম্ভবত মাহমুদা নাজনিন ম্যাডামের ক্লাস। ম্যাডাম পড়ানো শেষে একে একে জিজ্ঞাসা করছেন, বুঝেছ? মামুন বলল, না ম্যাডাম, বুঝি নাই। ম্যাডাম বললেন, ঠিক কোন পার্টটা বুঝো নাই? মামুন বলল, কি যে বুঝি নাই তাও বুঝি নাই।

কত, কত প্রশ্ন। ছোটবেলায় প্লানেরিয়ানের গল্প পড়েছিলাম। প্লানেরিয়ান হচ্ছে এক ধরনের চ্যাপ্টা ক্রিমি। একেবারে সরল ২ টা চোখ আছে, আর আছে একেবারে প্রাইমারি লেভেলের একটা ব্রেইন। সরল সহজ, এক্কেবারে মাটির মানুষ, সরি ক্রিমি।

এই প্লানেরিয়ানের একটা মজার জিনিষ আছে। একে যেভাবেই কাটা হোক না কেন সে বেঁচে থাকে। পেট বরাবর কাটলে একদিকে নতুন মাথা বের হয়, আরেকদিকে নতুন লেজ বের হয়, ২টা প্লানেরিয়ান হয়ে যায়। ভারটিক্যালি মাঝ বরাবর ২ভাগ করলে ডান পাশের অংশ থেকে বাম পাশ জন্ম হয়, বাম থেকে ডানের জন্ম হয়।

এই প্লানেরিয়ানটার মধ্যে কি কনশাসনেস আছে? তার ব্রেইনটাকে মাঝামাঝি কেটে যখন ২ টুকরা করা হয় তখন তার কি মনে হয়? আমাকে যদি লম্বালম্বি কেটে ২ ভাগ করা হত, তারপরও আমি বেঁচে থাকতাম, কোন পার্টটা আমি হতাম?

আমার শরীরে কোটি কোটি কোষ আছে। সাদা ব্লাড সেলগুলো সারাদিন ব্যাকটেরিয়ার সাথে মারামারি করছে। নিউরনগুলো পিতপিত করে জ্বলছে, নিভছে, একে অন্যের সাথে কথা বলছে।

এই সাদা ব্লাড সেলগুলো, এরা সবাই তো জীবন্ত, তাই না? জীবন্ত মানে কি কনশাস? এরা যখন ব্যাকটেরিয়ার সাথে মারামারি করে, তখন এরা কি চিন্তা করে? এরা তো আমার শরীরের পার্ট তাই না? এদের যদি কনশাসনেস থাকে সেই কনশাসনেস আসলে কার? ওই সাদা ব্লাড সেলের না আমার? একজন মানুষের ২ লেভেলের কনশাসনেস থাকা কিভাবে সম্ভব? আমার কি বুঝা উচিত আমার একেকটা নিউরন কি ভাবছে?

কিছুদিন আগে একটা ভিডিও দেখলাম: আর্টিফিশিয়াল নিউরন বের হয়ে গেছে, এই নিউরনগুলো মানুষের নিউরনের মতই সিগন্যাল ট্রান্সমিট করতে পারে। সেরকম অবাক হওয়ার কিছু নাই, নিউরন জাস্ট একটা সেল, এ আয়ন দিয়ে সিগন্যাল ট্রান্সমিট করে, ছোট একটা চিপ দিয়ে একই স্পিডে একি সিগন্যাল ট্রান্সমিট করাই যায় ।

আপনার একটা নিউরন নষ্ট হোল। ওই জায়গায় চিপ বসায় দিলাম। ১০০টা নিউরন নষ্ট হোল। ১০০টা চিপ জায়গামত বসালাম। সব কানেকশান ঠিকমত দিলাম। আপনি টেরও পাবেন না।

আপনার ব্রেইনে ৮৬ বিলিয়ন নিউরন আছে। এই নিউরনগুলো কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন এইসব অজৈব জিনিষ দিয়ে তৈরি। এই ৮৬ বিলিয়ন নিউরন একটা একটা করে তুলে ওই জায়গায় ১০০ বিলিয়ন সিলিকন, ফসফরাস এইসব অজৈব জিনিষ দিয়ে তৈরি চিপ বসায় দিলাম। যদি পুরো সিস্টেমটা ঠিকমত কাজ করে, স্টিল আপনি টেরও পাবেন না।

আপনার ৮৬ বিলিয়ন নিউরন, ৮৬ বিলিয়ন মেকানিক্যাল চিপ দিয়ে রিপ্লেস করা হয়েছে। আপনি কি এখনও মানুষ? আপনি কি এখনও কনশাস? যদি না হন, ঠিক কোন পয়েন্টে আপনার কনশাসনেস চলে গেছে?

যদি না গিয়ে থাকে, আপনার হাতের সিলিকন চিপের তৈরি মোবাইলটা কি কনশাস? না হলে, কেন নয়?

3 thoughts on “প্রথম পর্বঃ আত্মার গল্প”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *