কোয়ান্টাম ৩৮: কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ১

কোয়ান্টাম ৩৮

কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স  – ১

(প্রথম অংশটুকু অনেকদিন আগে আমার অন্য একটা আর্টিকেলেও প্রকাশিত হয়েছিল)

১।

১৬ই জুলাই, ২০০৮ সাল।

লেরিনা গার্সিয়া গর্ডো ঘুম থেকে উঠে ছোটখাটো একটা ধাক্কা খেলেন। তাঁর বেডশিটটা কে জানি চেঞ্জ করে দিয়েছে রাতে। এই রঙের বেডশিট কেনার কথা তাঁর মনে নেই, রাতে ঘরে চোর ঢোকার কোথাও মনে পড়ছে না।

যাকগে, বেডশিটের কথা পরে ভাবা যাবে, অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে, রওনা দিতে হবে।

গার্সিয়া রেডি সেডি হয়ে রওনা দিলেন। পথে কোন অঘটন ঘটল না,

বেডশিটের ঘটনা প্রায় ভুলতে বসলেন, কিন্তু অফিসে পৌঁছানোর পর ঘটলো প্রথম অঘটন।

তাঁর রুমের দরজায় বড় বড় করে লেখা লেরিনা গার্সিয়া নামটা আর নেই। ওখানে শোভা পাচ্ছে অন্য একজনের নাম। ২০ বছরের লয়াল্টির শেষ পর্যন্ত এই প্রতিদান? বিনা নোটিসে ছাটাই??

গার্সিয়া কোম্পানির ওয়েব সাইটে ঢুকলেন। না, তাঁকে ছাটাই করা হয় নি। তিনি কাজ করেন এখন অন্য এক ডিপার্ট্মেন্টে, অন্য এক ম্যানেজারের আন্ডারে, অফিসের একবারে অন্য একটা জায়গায়।

লেরিনার মাথা ঝিম ঝিম করে উঠল। অফিসে ফোন করে ছুটি নিলেন তিনি। কোথাও কোন সমস্যা হচ্ছে, সবকিছু ঠিক নাই। তাঁর কি Amnesia হয়েছে? স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে গেছে কিছুটা সময়?

লেরিনা বাসায় গেলেন। নেট চেক করলেন। তাঁর গতরাতের মনে করা টপ নিউজগুলো একই আছে, ঝামেলা হলো তাঁর রিসেন্টলি করা ব্লগ পোস্টগুলো ঠিক নেই, হারিয়ে গেছে অনেকগুলো। ইমেইলগুলোর অনেকগুলোই গায়েব।

পরের দিনগুলোতে আস্তে আস্তে পরিবর্তন আরও ভালো করে চোখে পড়ল। লেরিনার ড্রয়ারে পাওয়া গেলো এমন কিছু কাপড় যেগুলো কেনার কথা তাঁর মনে নেই। তাঁর বোনের কিছুদিন আগে ঘাড়ে সার্জারি হয়েছিলো, লেরিনার স্পষ্ট মনে আছে, ওই সার্জারির চিহ্নমাত্র তাঁর বোনের শরীরে নাই।

লেরিনার জীবন পুরোপুরি উলটে পালটে গেলো যখন দেখা গেলো  তাঁর ৬-৭ মাসের বয়ফ্রেন্ড হারিয়ে গেছে। তাঁর কোন চিহ্নমাত্র নাই। ওই ঠিকানায় কেউ থাকে না, ওই নামে কেউ নেই। কয়েক মাস আগে সাত বছরের পুরনো বয়ফ্রেন্ডের সাথে তাঁর ব্রেকআপ হয়, অথবা ব্রেকআপ হয়েছে বলে ভেবেছিলেন। এই ঘটনা ঠিক নেই। ব্রেকআপ হয় নি। তাঁর জীবনে আসে নি কোন নতুন পুরুষ।

লেরিনার ফ্যামিলি তাঁকে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার ব্যাপারটা ট্রমাটিক কেস বলে রায় দেন। ব্যাপারটা খুবই সম্ভব। Amnesia, সাথে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির ফাঁকগুলো ফিল আপ করলো ফলস মেমোরি। আমরা মাইন্ড রিডিং শিখছি, আরও এক্সপার্ট হলে হয়তো লেরিনার ব্রেইন উলটে পালটে বের করে ফেলতে পারবো আসলে কি হয়েছিলো।

লেরিনা ডাক্তারের কথা মেনে নেন নি। ফলস মেমোরি হোক আর যাই হোক, অগাস্টিন নামের মানুষটা তাঁর জীবন থেকে হারিয়ে গেছে, রেখে গেছে বিশাল এক শূন্যস্থান। লেরিনা আর তাঁর পরিবার পাকা অভিনেতা হতে পারে, না হয়ে থাকলে আর যাই হোক, লেরিনার কষ্টগুলো রিয়েল।

এক মাস পর, ১৬ই অগাস্ট লেরিনা গার্সিয়া ইন্টারনেটে এই পোস্টটা ছাড়েন:

Translated from Spanish:

Please, if anyone has gone through something similar, please contact me. I want to know what happened to me, as no pathology can tell me what has happened to me. I’ve spent the last five months reading theories that I find online and I’m convinced that I have jumped into an alternate reality. Something, some action I must have taken has changed my reality.

If I did jump into a parallel universe, then why am I living in the same year? I’m the same person, just minor differences in life.

To explain myself better, this is like having lost the last 5 months of my life. It’s like they were all just a dream, however everyone else has the memories of those 5 months except for me. And I’ve done things during that time that I have no memory of doing so.

Please, abstain from making jokes or telling me that you have “the truth”. This is very serious to me.

Thank you: lerinagarciagordo@yahoo.es

২।

লেরিনা গার্সিয়ার কাহিনী ইন্টার্নেটে পাওয়া প্যারালাল ইউনিভার্সের সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পগুলোর মধ্যে একটা। লেরিনা আসলেই প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে এসেছেন কিনা সন্দেহ আছে, তবে এই কাহিনী নিয়ে যথেষ্ট ঝড় উঠেছিল।

এই ঘটনার সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যা নেই কথাটা ঠিক নয়। ঘুমের মধ্যে মাইল্ড স্ট্রোক, সেই সাথে স্মৃতি বিভ্রম দিয়ে এই জিনিস কিছুটা ব্যাখ্যা করা যায়।

এই ঘটনা ইন্টার্নেটে পাওয়া প্যারালাল ইউনিভার্সের অনেকগুলো কাহিনীর মধ্যে একটা। এগুলোর কোনটাই যে সত্যি এমন দাবী করবো না। মানুষ তিলকে তাল করে, প্রচুর রং চড়ায়।

তার উপর, কোয়ান্টাম মেকানিক্স যে ধরনের প্যারালাল জগতের কথা বলে, তাতে এ ধরনের এক জগত থেকে অন্য জগতে জাম্প করার কথা না।

আরও একটা কথা না বললেই নয়,

সকল প্রকার প্যারালাল ইউনিভার্স, মাল্টিভার্স হাইপোথেটিক্যাল।

আবার বলছি,

সকল প্রকার প্যারালাল ইউনিভার্স, মাল্টিভার্স ধারনা মাত্র।

৩।

এখন পর্যন্ত প্রমাণিত না হলেও, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কোপেনহ্যাগেন ইন্টারপ্রিটেশানের পরই সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাখ্যা মেনি ওয়ার্ল্ড ইন্টারপ্রিটেশান।

কারণগুলো আমরা আগামী পর্বে জানবো।

Nayeem Hossain Faruque

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

কোয়ান্টাম ৩৯: কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ২

Fri Jun 28 , 2019
Post Views: 1,211 Facebook0Tweet0Pin0 কোয়ান্টাম ৩৯ কোয়ান্টাম মাল্টিভার্স ২ উৎসর্গঃ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে থাকা অগণিত মহাপ্রতিভাধর বিজ্ঞানীদের, যারা পপ সায়েন্সের দুই পাতা আর কুঁড়িয়ে পাওয়া  মুড়ির ঠোঙ্গায় লেখা দুই প্যারাগ্রাফের আর্টিকেল পড়ে বিজ্ঞানের সব কিছু বুঝে ফেলেন, তারপর নিউটন আইনস্টাইনদের গুষ্টি উদ্ধার করে প্রবন্ধ রচনা শুরু করেন। ১। নানাম ধরণের […]

Subscribe