জুরাসিক ২

জুরাসিক ২
আগের পর্বে জুরাসিকের গল্প বলেছি, কয়েকটা জিনিস না বললেই নয়, তাই এই দ্বিতীয় পর্ব।

১।
আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগে যীশু বা  ঈসা (আ) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পৃথিবীতে প্রথম হোমো স্যাপিয়েন্স জাতের প্রাণী দেখা যায় প্রায় ১ লক্ষ বছর আগে। ১ লক্ষ মানে ৫০ × ২০০০, ৫০ যীশু আগে।
১ লক্ষ কে ১০০ দিয়ে গুন করলে হয় ১ কোটি। ১ কোটিকে ৭ দিয়ে গুন করলে হয় ৭ কোটি। ২০০০ দিয়ে ভাগ করলে হয় ৩৫০০০। অনেক, অনেক লম্বা সময়। এই সাত কোটি বছরে পৃথিবীর মানচিত্র উলটে পালটে গেছে। ইন্ডিয়া সমুদ্রের মাঝখানে ছিল, এশিয়ার সাথে এসে লেগেছে। হিমালয় পর্বত গড়ে উঠেছে।
৭ কোটি বছর আগে ডাইনোসর টি রেক্স বাস করতো পৃথিবীতে। আরও ৮ কোটি বছর আগে শেষ হয় জুরাসিক যুগ, সেই সময় থাকতো বিরাট বিরাট লম্বা গলাওয়ালা আপাটসরাস ব্র্যাকিওসরাসরা।
গতকাল সকালে যদি জিশুখ্রিস্টের জন্ম হয়ে থাকে, টি-রেক্সরা পৃথিবীতে ছিল ১০০ বছর আগে। ব্র্যাকিওসরাসরা ২০৫ বছর আগে। আমাদের কাছে  টি-রেক্সরা যত আগের, টি-রেক্স দের কাছে ব্র্যাকিওসরাসরা তার চেয়েও বেশি আগের।
মানুষ যদি পৃথিবীতে আসে দেড় মাস আগে, যীশু এসেছেন মাত্র ১ দিন আগে, আর ১৭০০ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ বছর রাজত্ব করেছে ডাইনোসররা।

২।
মানচিত্রের কথায় আসি। ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীর ম্যাপ পুরাই অন্যরকম ছিল। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, আন্টার্ক্টিকা, অস্ট্রেলিয়া একসাথে ছিল, নাম ছিল গন্ডয়ানাল্যান্ড। উত্তরে ছিল উত্তর আমেরিকা, এশিয়ার অনেকটা, নাম লরেশিয়া। বামে প্রশান্ত মহাসাগর, ডানের সমুদ্রটার নাম টেথিস সাগর। মেরু অঞ্চল তখন ছিল সবুজ, সতেজ ডাইনোসর চারণভূমি। আমরা এখন বাস করি কোয়ার্টার্নারি যুগে, এই যুগে কয়েক হাজার বছর পর পর আইস এজ আসে, এই চক্রের নাম মিলাল্কোভিচ সাইকেল। জুরাসিক সেরকম ছিল না। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রির মতো, এমনকি বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড ছিল এখনকার প্রায় ৫ গুন, অক্সিজেন ছিল ১৩০%।

৩।
সবশেষে ডাইনোসরদের কথা। পার্মিয়ান ঝংসজজ্ঞের শেষে ম্যামাল লাইক রেপ্টাইলরা বেশিরভাগই ধ্বংস হয়ে যায়, টিকে থাকে আর্কোসররা। আর্কোসরদের অনেক বংশধর ছিল, ট্রায়াসিকের শেষে আর একবার কেয়ামত নামে পৃথিবীতে, আর্কোসরদের আর সব বংশধর ঝারে বংশে শেষ হয়ে যায়। হারাধনের ১০টি ছেলে, রইলো বাকি তিন।
তিন ছেলের এক ছেলের নাম কুমির। এরা হাটে পা বাঁকা করে, থাকে জলাভূমির তীরে।
নগ্ন শকুনের মতো যারা আকাশে উড়াল দিলো তাদের নাম টেরোসর। টেরোসর কিন্তু ডাইনোসর না, তাদের আত্মীয় বলা যায়।
আর্কোসরদের বংশধর, যারা ডাঙ্গায় বাস করতো, বিশেষ ভঙ্গিতে সোজা হয়ে হাঁটত তাদেরকে বলে ডাইনোসর। জিরাফের মতো লম্বা গলাওয়ালা বিশালদেহি ডাইনোসরদের বলে সরোপড, আর টি-রেক্সের মতো খাটো গলাওয়ালা, ছোট ছোট গলাওয়ালা ডাইনোসরদের নাম থেরপড। সরোপড থেরোপড ছাড়াও আরও অনেক ধরনের ডাইনোসর আছে, আস্তে আস্তে তাদের গল্প আসবে।

৪।  
সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে, প্রায় ১৫ কোটি বছর রাজত্ব করার পর ডাইনোসররা ধ্বংস হয়। ডাইনোসরদের শেষ জীবন্ত বংশধর হচ্ছে পাখি। পাখি এসেছে থেরোপড ডাইনোসর থেকে, পৃথিবীতে টি-রেক্সের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় হলো মুরগি টাইপের পাখি!

১৫ কোটি বছরে এরা রেখে গেছে হাজার হাজার ফসিল। আস্ত ডাইনসরের ফসিল পাওয়া যায় ছোট ছোট ডাইনোসরে, বড় ডাইনোসরের আস্ত ফসিল বেশ রেয়ার। এই ফসিলগুলো ডাইনসরের জীবন্ত ইতিহাস। চামড়ার ফসিল মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, অনেক ডাইনোসরের চামড়ায় স্পষ্ট পালক দেখা গেছে, কিন্তু রঙ সাধারণত এতো বছরে নষ্ট হয়ে যায়। মাংসাশী ডাইনোসরের পেটের ভেতর অনেক সময়ই তৃণভোজী ডাইনোসরের হাড় পাওয়া যায়।

বড় ডাইনোসরের আস্ত ফসিল দুর্লভ হলেও মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, হই চই পরে যায় তখন। কয়েক বছর আগে এক খনির ভেতর বিশাল এক নডোসরের আস্ত ফসিল পাওয়া যায় একেবারে চামড়া সহ . তারও কয়েক বছর আগে পাওয়া যায় টি-রেক্সের আস্ত ফসিল।

https://www.nationalgeographic.com/magazine/2017/06/dinosaur-nodosaur-fossil-discovery/

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Sue_(dinosaur)

Nayeem Hossain Faruque

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

ক্রেটাসিয়াস ১

Thu Jun 27 , 2019
Post Views: 1,077 Facebook0Tweet0Pin0 ক্রেটাসিয়াস ১। ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ব্যাঙ্গর ব্যাঙ। বিলজেবুফো ডাকছে। একটু আগে ডাইনোসরের বাচ্চার রান দিয়ে ব্রেকফাস্ট করেছে সে। এখন মনের আনন্দে গান গাচ্ছে। ক্রেটাসিয়াস হলো দানবদের যুগ। একগাদা ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বড় প্রাণীদের জায়গা হবে ক্রেটাসিয়াসে। সবচেয়ে বড় ব্যাঙ কে? ক্রেটাসিয়াসের বিলজেবুফো। সবচেয়ে বড় কুমির কে? ক্রেটাসিয়াসের সারকোসুচাস। […]

Subscribe